চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের চাকফিরানী এলাকায় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকা বন্য হাতিটিকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে। ময়নাতদন্তে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক ফাঁদে আটকেপড়ার পর হাতিটিকে গুলি করা হয়েছিল। সোমবার রাতে প্রাণীটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

মঙ্গলবার চুনতি রেঞ্জের বড়হাতিয়ার বন বিট কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান লোহাগাড়া থানায় মামলার এজাহার জমা দিয়েছেন।

এর আগে বন বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তাসহ পুলিশের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারি সার্জন মিলে হাতিটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। এতে বলা হয়েছে, হাতিটির শরীরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার দাগ পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎস্পর্শ হওয়ার চিহ্নও আছে। ময়নাতদন্তের পর হাতির মৃতদেহ বনাঞ্চলের ভেতরেই পুঁতে ফেলা হয়।

কক্সবাজারের ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান ও লোহাগাড়া উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. আসাদুজ্জামান হাতিটির ময়নাতদন্ত করেন।

ডা. আসাদুজ্জামান সমকালকে জানান, হাতিটির শুঁড়ে বৈদ্যুতিক শকের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া ডান চোখের ওপরে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাতিটি মারা গেছে। ক্ষত স্থান থেকে একটি গুলিও বের করা হয়েছে। সেটি আমরা বন বিভাগকে জমা দিয়েছি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, বনাঞ্চলের ভেতরে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প রয়েছে। সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে। মৃত হাতিটিকে পাওয়া গেছে বনের ভেতরে দুই পাহাড়ের মাঝে সরকারি খাস জমিতে। সেখানে যারা চাষাবাদ করেন, তারাও ফসল রক্ষায় জমিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেন। বনের ভেতরে অনেক ধরনের লোকজনের আনাগোনা আছে। বিদ্যুৎস্পর্শ হওয়ার পাশাপাশি কে বা কারা হাতিটিকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয়রা জানান, বড়হাতিয়া চাকফিরানী এলাকায় শীত মৌসুমে ক্ষেতের পাশে বন্য শূকরের জন্য বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতা হয়। ওই ফাঁদে পড়ে মারা যায় হাতিটি।

লোহাগাড়া থানার ওসি জাকির হোসাইন মাহামুদ বলেন, হাতি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

দু'বছর আগেও একই এলাকায় বৈদ্যুতিক ফাঁদে আটকা পড়ে মারা যায় দুটি বন্যহাতি।