কুমিল্লার আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) কক্ষে এক প্রবাসীর সাবেক স্ত্রী (২৪) ও এক যুবকের (২৯) বিয়ে হয়েছে। এর আগে ওই যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেছিলেন ওই কনে। পরে কুমিল্লার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাব উল্লাহ বিয়ের শর্তে ওই যুবককে জামিন দেন এবং আদালত আঙিনায় তাদের বিয়ের নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার এই বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর কনে বাড়িতে গেলেও বর গেছেন কারাগারে। তিনি আইনি কার্যক্রম শেষে আজ বুধবার মুক্তি পেতে পারেন।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভাঙ্গাপুস্করণী গ্রামের এক তরুণীর বিয়ে হয় একই উপজেলার এক সৌদি প্রবাসীর সঙ্গে। ২০১৫ সালে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় একই উপজেলার পারুয়ারা গ্রামের সজীব হোসেন লিটনের। লিটন ওই প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে তার অনিচ্ছায় শারীরিক সম্পর্ক করে। এর পর কিছু ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। সেই ভিডিও তার প্রবাসী স্বামীর পরিবারেও পাঠায় লিটন। এতে স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেন। পরে তার কাছে আবারও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে সে। এ ঘটনায় গত অক্টোবর মাসে চৌদ্দগ্রাম থানায় ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন ওই নারী। পুলিশ আসামি লিটনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সরকার গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ জানান, বাদী ও আসামিপক্ষ এলাকায় বিয়ের শর্তে আপস করেছে। এই আপসের শর্তে আদালত আসামিকে জামিন দিয়েছেন। এর পরই ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয় তাদের। আর আসামিপক্ষের আইনজীবী তারেকুল আলম রাসেল বলেন, মূলত বাদী ও আসামির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আসামিও জানত না- বাদী বিবাহিত। এখন আপসের কারণে আদালত জামিন দিয়েছেন এবং বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন।

এদিকে এ বিষয়ে বাদী ও আসামিপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।