ব্যবসার জন্য চড়া সুদে বন্ধু শান্তর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন মোশারফ হোসেন। কিন্তু সে টাকা আর ফেরত দিতে পারছিলেন না। টাকা ফেরত দিতে না পারায় মোশারফকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে শান্ত। এক পর্যায়ে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে কয়েক বন্ধুর সহযোগিতায় শ্বাসরোধে হত্যার পর রিকশায় করে বাড়ির সামনে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় খুনিরা।

বুধবার আদালতে এভাবেই এ হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে প্রধান আসামি আলম হোসেন। মোশারফ হত্যার অন্যতম আসামি আলমকে মঙ্গলবার রাতে টঙ্গীর এরশাদ নগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই সদস্যরা। প্রায় তিন বছর পর মোশারফ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করল গাজীপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই-এর গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, গাজীপুর মহানগরের হায়দারাবাদ এলাকার মোশারফ হোসেন তার বন্ধু জনৈক শান্তর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা সুদে ধার নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভাবের কারণে টাকা ফেরত দিতে পারছিলেন না। ২০১৭ সালের ২১ মে বিকেল বেলায় শান্ত মোবাইল ফোনে মোশারফকে ডেকে নিয়ে যায় হায়দারাবাদ ব্রিজের কাছে। শান্ত ও আলমসহ কয়েক বন্ধু মিলে শ্বাসরোধে মোশারফকে হত্যার পরে রিকশায় করে লাশ নিয়ে  ফেলে দেয় তারই বাড়ির সামনে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় পরদিন নিহতের মা মোসা. পারভীন আক্তার টঙ্গী থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়ভার আসে পিবিআইয়ের কাছে।
জেলা পুলিশ সুপার বলেন, দীর্ঘ তদন্ত শেষে এ হত্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত প্রধান আসামি টঙ্গীর এরশাদ নগর এলাকার আলমাছ মিয়ার ছেলে মো. আলম হোসেনকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়েই বেরিয়ে আসে মোশারফ হত্যার রহস্য। বুধবার আদালতে আলম হত্যার বিশদ বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। খুব শিগগিরই শান্তকেও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবেন বলে জানান তিনি।