সরকারি চাল আত্মসাতের দায়ে অবশেষে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলকে। সরকারি গাছ কাটা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির কারণে তাকে এর আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে গজনাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মাহবুবুর রহমান নুরুকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।

তিনি বলেন, ০৩ ডিসেম্বর থেকে ইমদাদুর রহমান মুকুলকে ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে বিরত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মুকুলের বরখাস্ত সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, বিগত চার বছর ধরে সুবিধাভোগীদের না দিয়ে নামে বে-নামে বহু খাদ্য কর্মসূচির চাল আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে ইমদাদুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযানে নামে। সেই তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেন মুকুল। এরপর বিচারপতি এম. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি এম. মাহমুদ হাসান তালুকদারের বেঞ্চ শুনানি শেষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সেই আদেশ স্থগিত করে চেয়ারম্যানকে স্বপদে বহালের আদেশ দেন।

এরপর স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে গত ৪ অক্টোবর আপিল বিভাগে করা মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বাতিল করেন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরখাস্তের আদেশ বহাল করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক সম্প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।

এ ব্যাপারে ইমদাদুর রহমান মুকুল সমকালকে বলেন, আমি এখনও কোনো চিঠি পাইনি।

এর আগে আলোচিত এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটা, পাহাড় নিধনসহ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার অভিযোগ ওঠে। তার অনিয়ম আর দুর্নীতিসহ নানা অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পরে তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করতেও রেজুলেশন করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছে দলটির হবিগঞ্জ জেলা কমিটি। এ তথ্য নিশ্চিত করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগে কোনো দুর্নীতিবাজের স্থান নেই।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক বলেন, ইতোমধ্যে নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইমদাদুর রহমান মুকুলকে দলীয় সব ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সাখাওয়াত হোসেন শফিক বলেন, মুকুলের বিরুদ্ধে দলীয় অধিকতর তদন্ত চলছে। প্রমাণিত হলে দল থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।