কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের (কুসিক) শাকতলা এলাকায় ফোরলেনের জন্য রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য এক্সভেটর (ভেকু) দিয়ে খাল ভরাট কাজ বন্ধ রাখতে কুসিকের পক্ষ থেকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। 

বুধবার স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে কুসিক মেয়রের নির্দেশে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কুসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। এরপর বিকেলে সার্ভেয়ার দিয়ে সঠিকভাবে পরিমাপের আগে খাল ভরাট না করতে সওজকে চিঠি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে কুসিক ও সওজ'র পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

সওজ সূত্র জানায়, কুমিল্লা-নোয়খালী ফোরলেন কাজের জন্য বুধবার নগরীর শাকতলা এলাকায় সওজ অফিসের সামনের খাল ভরাট শুরু করে সওজ। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে কুসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে খাল ভরাট না করতে অনুরোধ করেন। 

এ বিষয়ে কুসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ বলেন, 'খালটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের, এর দেখভাল করছে কুসিক। কিন্তু খাল ভরাটের আগে কুসিক কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছুই জানতো না। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে সওজ-এর প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলেছি যেন আমাদের সার্ভেয়ার রেখে সঠিকভাবে পরিমাপ করেই খাল ভরাট করা হয়। এ বিষয়ে পরে লিখিতভাবে বিকেলে সওজকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।'

খাল ভরাট করলে নগরীর পানি অপসারণে সমস্যা হবে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে কুসিক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু সন্ধ্যায় বলেন, 'নগরীর পানি বাইরে অপসারণ করতে এ খাল বিরাট ভূমিকা রাখে। কিন্তু ফোরলেনের সড়ক সম্প্রসারণ করার নামে খাল ভরাট করা হলে নগরীর পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। বিষয়টি বিবেচনার জন্য সওজ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।'

এদিকে রাতে সওজ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, 'পুরো খাল ভরাট করার প্রয়োজন নেই, যেটুকু ভরাট হচ্ছে তা আমাদের (সওজ) কেনা জমি। খালের পাশে কংক্রিটের দেয়াল নির্মাণ করা হবে। এতে খালের পানি প্রবাহে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার কথা না। কুসিক বিষয়টি না বুঝেই সমস্যার কথা বলছে।'