অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী খাদিজা খাতুনকে জোর করে বিয়ে দেন বাবা ইউনুস আলী। এ বাল্যবিয়েতে কোনোভাবেই রাজি ছিল না সে। এ অবস্থায় বিয়ের ১৫ দিন পরেই শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে আসে নিজের বাড়িতে। তবে তিন-চার দিন আগে ফের তাকে নিতে আসে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এর প্রতিবাদ জানায় ওই কিশোরী বধূ। মেয়ের পক্ষে দাঁড়ানোয় মা মিনারা খাতুনকেও সইতে হয় স্বামীর নির্যাতন। এক পর্যায়ে অভিমানে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান মা। এরপর মঙ্গলবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হাজির হয় খাদিজা। ইউএনও বিপুল চন্দ্র দাশকে জানায় বিস্তারিত।

খাদিজার বাড়ি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের গৌরাঙ্গপুর গ্রামে। স্থানীয় ধামচন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সে। দুই মাস আগে পাংশা উপজেলার মাছপাড়া গ্রামের বদর মিয়ার ছেলে রাজীব মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় তার। রাজীব তার ফুফাতো ভাই।

খাদিজা জানায়, বাল্য বয়সে সে সংসার করতে চায় না। রাজি না থাকলেও তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আরও পড়াশোনা করতে চায় সে। তাই চলে আসে নিজের বাড়ি। তার পক্ষে থাকায় মাকে মারধর করেন বাবা। অভিমানে মা বিষপান করলে তাকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পাংশা ইউএনও বিপুল চন্দ্র দাশ জানান, মেয়েটির কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে তিনি কালুখালী ইউএনওকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন। এ বিষয়ে কালুখালী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ইউপি চেয়ারম্যান দায়িত্ব নিলে মেয়েটি নিরাপদে থাকবে।

কালুখালীর ইউএনও আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়ষ্ক। তাকে পাংশায় নিয়ে গোপনে বিয়ে দেন বাবা। বিয়ের রেজিস্ট্রি বা আনুষঙ্গিক কিছু করা হয়নি। বিষয়টি জানতে পেরে কালুখালী থানার পুলিশ, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেটসহ মেয়েটির বাড়ি যাওয়া হয়; কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। মেয়ের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ রাখা হয়েছে। যাতে পরিবারকে আইনের আওতায় আনা যায়। বর্তমানে সে তার খালার কাছে নিরাপদে আছে।

কালুখালী থানার ওসি মাসুদুর রহমান জানান, এই বিয়ের কথা শুনে তারা বাধা দিয়েছিলেন। পরে মেয়ের বাবা গোপনে বিয়ে দেন।