দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় গোপালগঞ্জে আমন ধানের চাষ বাধাগ্রস্ত হলেও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল আমন ধানের জাত বিনাধান-১৭ বাম্পার ফলন দিয়েছে। খরা ও বন্যা সহিষ্ণু স্বল্প জীবনকালের এই ধানের জাতটি হেক্টরপ্রতি ৫ টন ফলন দিয়েছে। এই ধান চাষে পানি সেচ, সার ও কীটনাশক কম লেগেছে। কম খরচে বেশি ধান উৎপাদন করে কৃষকরা লাভবান হয়েছেন। 

গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্র জানিয়েছে, চলতি আমন মৌসুমে গোপালগঞ্জের ৫ উপজেলার ২৫ একর জমিতে ৫০ জন কৃষক বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বিনাধান-১৭ আবাদ করেন । 

গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম আকন্দ বলেন, জলাবদ্ধতা, খরা ও রোগবালাই সহিষ্ণু এই ধানের জাতটি আমন মৌসুমের প্রচলিত জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন ফলন দিয়েছে। দীর্ঘ স্থায়ী বন্যার মধ্যেও হেক্টর প্রতি এর ফলন হয়েছে ৫ টন। প্রচলিত জাত ফলন দেয় আড়াই থেকে ৩ টন। পানি সেচ, সার ও কীটনাশক কম লেগেছে। তাই উৎপাদন খরচ সাশ্রয় হয়েছে। স্পল্প খরচে অধিক ধান উৎপাদন করে কৃষকরা লাভবান হয়েছেন। 

বিনার মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. জহুরুল ইসলাম জানান, স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন এ ধান চাষের সুবাদে বছরে ২টি ফসলের পরিবর্তে কৃষকরা একই জমিতে ৩টি ফসল করতে পারছেন। এছাড়া বিনাধান-১৭ জাতটি খরা এবং জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে। এর জীবনকাল স্বল্প এবং এর গাছ হেলে পড়ে না। চাল সরু জাতের। তাই কৃষক বাজারে এই ধানের দাম বেশি পান।

বিনাধান-১৭  এর আবাদ ছাড়িয়ে দিতে পারলে কৃষক দেশের আমন মৌসুমে ধান উৎপাদন বৃদ্ধি করে আরো বেশি লাভবান হবে বলে জানান এ কৃষি বিজ্ঞানী।

কাশিয়ানী উপজেলার পশ্চিম মাঝিগাতী গ্রামের কৃষক লেলিন খন্দকার বলেন, বিনাধান-১৭ অন্তত ৩ বার বন্যার কবলে পড়েছে। তারপরও বিনা গোপালগঞ্জ উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম আকন্দের পরামর্শে চাষাবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছি। স্বল্প জীবনকালের এ ধান কেটে জমিতে মসুর আবাদ করবো। মসুর ক্ষেত থেকে তোলার পর পাট চাষ করবো। আগে এ জমিতে ২টি ফসল হতো। এখন বিনামূল্যে বিনা উপকেন্দ্র থেকে বীজ, সার, কীটনাশক, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ পাচ্ছি। পাশাপাশি তাদের চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করে একই জমিতে বছরে ৩টি ফসল করে লাভবান হচ্ছি।

বিষয় : গোপালগঞ্জ বিনাধান-১৯ বন্যা

মন্তব্য করুন