পদ্মা সেতুর টোল এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সেতু বিভাগ। মঙ্গলবার সেতু বিভাগের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টোলের হার নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তীতে টোল নির্ধারিত হলে জনগণকে অবহিত করা হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছে সেতু বিভাগ।

১০ ডিসেম্বর শেষ স্প্যান স্থাপনের মাধ্যমে পদ্মা সেতু পূর্ণ রুপ পেয়েছে। রোডওয়ে স্ল্যাব, রেলওয়ে স্ল্যাব স্থাপনসহ অন্যান্য কাজ শেষে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দ্বিতল এই সেতু চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এ সেতু ব্যবহারে টোল দিতে হবে।

পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থ বিভাগ ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সেতু বিভাগ। ৩৫ বছরে ১ শতাংশ সুদে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। গত বছরের ২৯ আগস্ট এ সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়। চুক্তিতে টোলের খসড়া হার নির্ধারণ করা হয়। গত রোববার সেতু সচিব বেলায়েত হোসেন সমকালকে বলেছেন, টোল এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

খসড়া অনুযায়ী, পদ্মা সেতু একবার পারাপারে মোটর সাইকেলকে সর্বনিম্ন ১০৫ টাকা দিতে হবে। প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসকে এক হাজার ৮০ টাকা দিতে হবে। বর্তমানে চালু ফেরির ভাড়ার দেড় গুণ ধরে পদ্মা সেতুর খসড়া টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। তা অনুযায়ী ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মানাধীন পদ্মা সেতু ব্যবহারে বড় বাসকে দুই হাজার ৩৭০ টাকা টোল দিতে হবে। ছোট ট্রাকে এক হাজার ৬২০ টাকা, মাঝারি ট্রাকে দুই হাজার ১০০ টাকা, বড় ট্রাকে দুই হাজার ৭৭৫ টাকা টোল দিতে হবে। কন্টেইনারবাহী ট্রেইলারের টোল হবে চার হাজার টাকা। বাড়তি প্রতি এপেলের জন্য আরো দেড় হাজার টাকা করে যোগ হবে।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের এ সংক্রান্ত খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর পর টোলের উচ্চ হার নিয়ে সমালোচনা চলছে। এর জবাবে মঙ্লবার সেতু বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পদ্মা সেতুর টোল হার নিয়ে যে অপপ্রচার চলছে তা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। টোলের হার নির্ধারণের বিষয়টি অপপ্রচার এবং গুজব।