নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ঢালচর এলাকায় মেঘনা নদীতে বরযাত্রীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনায় বর বেঁচে গেলেও নববধূসহ সাতজনের প্রাণহানি হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আটজন। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের উদ্ধার করা যায়নি। মঙ্গলবার বিকেলে হাতিয়ার নলেরচর থেকে ভোলার মনপুরা যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হাতিয়ার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক একরাম উল্লাহ জানান, বরযাত্রীবাহী মাছ ধরার ট্রলারটিতে শিশু-নারীসহ অর্ধশতাধিক মানুষ ছিলেন। জীবিত উদ্ধার লোকদের বরাতে তিনি বলেন, মাছ ধরার ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকায় গাদাগাদি করে লোকজন ওঠেন। বিয়ের কাজ সম্পন্ন করে ফেরার পথে সবাই আনন্দ-উল্লাস করতে থাকেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ট্রলারটি টাংকির খাল-ঘাসিয়ারচর এলাকার মেঘনা নদীতে পৌঁছায়। এ সময় নদীতে তীব্র স্রোত ও ঢেউ ছিল। নৌকায় আনন্দ-ফুর্তি করতে গিয়ে এটি একদিকে কাত হয়ে যায়। তখন স্রোতের তোড়ে ও ঢেউয়ে নৌকাটি উল্টে যায়। তৎক্ষণাৎ মেঘনা নদীতে মাছ ধরারত আশপাশের জেলেরা এগিয়ে এসে কিছু লোককে উদ্ধার করেন। অনেকেই সাঁতার কেটে পার্শ্ববর্তী চরে আশ্রয় নেন।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন ও হাতিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, দুর্ঘটনায় মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত সাতজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আটজন। তাদের সাতজনই শিশু। নিখোঁজরা হলেন- জাকিয়া বেগম (৫৫), মো. হাসান (৭), নার্গিস বেগম (৪), হালিমা (৪), লামিয়া (৩), নিহা (১), আমির হোসেন (২) ও আলিফ (১)।

হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের থানার হাট এলাকার ইব্রাহীম সওদাগরের মেয়ে তাছলিমার সঙ্গে উপজেলার ঢালচরের বেলাল মিস্ত্রির ছেলে ফরিদ উদ্দিনের বিয়ে হয়। মঙ্গলবার তাছলিমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরের বাড়িতে নেওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বুধবার নিহত সাতজনের লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। এ সাতজন হলেন- নববধূ তাছলিমা (২০), হরণী ইউনিয়নের মোহম্মদপুর গ্রামের আক্তার হোসেনের মেয়ে আসমা বেগম (১৯), সদর উপজেলার বদরপুর গ্রামের আকবর হোসেনের মেয়ে আফরিনা আক্তার লামিয়া (৯), আলমগীর হোসেনের মেয়ে লিলি আক্তার (৮), নলেরচরের কালাদুর গ্রামের ফয়জ্জুল্লার মেয়ে হোসনে আরা (৫), চানন্দী ইউনিয়নের পূর্ব আজিম নগর গ্রামের আলাউদ্দিনের স্ত্রী রাহেনা বেগম (৩০) ও একই এলাকার খোরশেদ আলমের স্ত্রী নুরজাহান (৬৫)।

ইউএনও ইমরান হোসেন জানান, নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে। নিহত সাতজনের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এদিকে ট্রলারডুবির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক খোরশেদ আলম ও পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন।