স্ত্রী-কন্যা নিয়ে ছোট্ট সংসারটা সুখের হওয়ার কথা ছিল পাবনার সুমন শেখের। কিন্তু মাদকের থাবা ভেঙে দিয়েছে তার ও তার পরিবারের সেই স্বপ্ন। মাদকের ছোবলে সহায়-সম্বল হারিয়েছেন, একাধিক মামলায় খাটতে হয়েছে জেলও। সেই জীবনে আর ফিরে তাকাতে চান না ৩০ বছরের এই যুবক। রিকশার প্যাডেলে পা রেখে চলতে চান নতুন পথে।

সেই অঙ্গীকার করে কারা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় পাবনা জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা বিভাগের অপরাধী সংশোধন পুর্নবাসন সংস্থার থেকে বৃহস্পতিবার একটি রিকশা পেয়েছেন সুমন শেখ। তিনি পাবনা জেলার আমিনপুর থানার শ্যামসুন্দর গ্রামের দিনমজুর নাসির শেখের ছেলে।

মাদক না খাওয়াসহ পাঁচটি শর্তে নতুন রিকশা পাওয়া এই যুবক সমকালকে বলেন, 'আমি জীবনে আর কোনদিন গাঁজা, ফেন্সিডিল খামু না; অন্য কোন মাদকও খামু না, কাউকে খাইতেও দিমু না। আজ যে রিকশাডা পাইলাম এইডা দিয়া সারা জীবন চলমু। এই রিকশা দিয়া যেন জীবনের চাকা ঘুরাইতে পারি, সবার কাছে এই দোয়া চাই।'

মাদকসাক্ত হিসেবে একাধিক মামলায় ছয় মাস সাজা খেটে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। এক কন্যার জনক সুমন জানান, তিনি সঙ্গ দোষে মাদক খাওয়া শিখেছেন। ঘরের ঘটি-বাটি, বউয়ের চুরি-গয়না বিক্রি করে মাদক নিয়েছেন। আর জীবনে মাদক নিতে চান না।

পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ রিকশাটি সুমনের হাতে তুলে দেন। এ সময় পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জাহেদ নেওয়াজ, সমাজসেবা বিভাগের উপ-পরিচালক রাশেদ কবীর, জেল সুপার শাহ আলম খান, সমাজসেবা বিভাগের কর্মকর্তা  মো. পল্লব ইবনে শায়েখ উপস্থিত ছিলেন। সমাজসেবা কর্তৃপক্ষ জানায়, পাবনা কারাগার থেকে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা আরও সাতজনকে এভাবে পুর্নবাসন করা হবে।