ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংরক্ষিত নারীর আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম ওরফে শিউলি আজাদের সব অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন সরাইল উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য হিসেবে এমপি যার নাম প্রস্তাব করেছেন তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন- এমন দাবি তুলে মুক্তিযোদ্ধারা এ ঘোষণা দেন। তবে এমপির দাবি- উপজেলার সব মুক্তিযোদ্ধা নন, কতিপয় মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে তার স্বামীর কতিপয় খুনিও ছিলেন।

শনিবার দুপুরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নবাগত ইউএনও আরিফুল হক মৃদুলের সঙ্গে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের এক পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় মুক্তিযোদ্ধারা এ ঘোষণা দেন। একই সভা থেকে নতুন করে আবারও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার বিরোধিতাও করেছেন তারা।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ইসমত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক উপপরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মোতালেব, সরাইল থানার ওসি এ.এম.এম. নাজমুল আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুর রাশেদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজবাহ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল খাঁ, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মাহফুজ আলী প্রমুখ।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, নানা কলাকৌশলে অনেক অমুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তারাই আজ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা যাচাই-বাছাই কমিটির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ও অবমাননাকর। আমাদের শেষ বেলায় যাচাই-বাছাইয়ের নামে চিন্তায় ফেলেছে। রাজাকারের উত্তরসূরিরা আজ সরকারের ভেতরে কৌশলে প্রবেশ করছে। এরাই সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে। '৭১-এ বুকে বুলেট নিয়েছি। পরাজিত হইনি। এখনও রাজাকারের কাছে পরাজিত হবো না।

মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, সংসদ সদস্য সরাইলে যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য হিসেবে যার নাম প্রস্তাব করেছেন তিনি একজন অমুক্তিযোদ্ধা এবং তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি তাহের উদ্দিন ঠাকুরের আত্মীয়। তিনি কয়েক দিন আগে কৌশলে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। আমরা তাকে মেনে নিতে পারি না। তারা আরও বলেন, সরাইলের এক অনুষ্ঠানে এমপি কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে উত্তরীয় পরাননি। অথচ সম্প্রতি আশুগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমিরকে সংবর্ধনা দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম ওরফে শিউলি আজাদ বলেন, ওই সভায় সরাইলে সব বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন, যারা আমার স্বামীর খুনের সঙ্গে জড়িত।