বহুল আলোচিত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আটক ওয়াকার আহম্মেদ নান্নুর বড় ভাই ইফতেখার আহম্মেদ খান বাবুকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার বাড়ি থেকে একটি চোরাই প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে বাবুকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তিনি বাড়ির দরজা আটকে ফেসবুক লাইভে এসে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিোগ করতে শুরু করেছিলেন। বাবু উপজেলার খোদাতপুর কলোনীর মৃত সাহাব উদ্দিনের ছেলে। ছোট ভাইকে গ্রেপ্তারের ৯ দিনের মাথায় তাকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার বাবু নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা, সাংবাদিক ও স্থানীয় এমপির ঘনিষ্ট সহযোগীসহ বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে ছোট ভাই ওয়াকার আহম্মেদ নান্নুকে দিয়ে কৌশলে বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে ঘোড়াঘাট থানার এসআই দুলু মিয়া বাদী হয়ে ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ খবর পায় বাবুর বাড়িতে একটি চোরাই প্রাইভেটকার আছে এবং তিনি প্রাইভেটকার চোর চক্রের সদস্য। পরে বুধবার রাত ১০ টার দিকে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তার বাড়ি থেকে একটি চোরাই প্রাইভেটকার (রেজিষ্ট্রেমন নং-ঢাকা মেট্রো গ ১২-৯৩৬২) জব্দ করা হয়। আসামি কারের মালিকানা সম্পর্কিত কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাইভেট কারটি চোরাই বলে স্বীকার করেছেন।

ইফতেখার আহমেদ খান বাবু সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হয়ে ২০০৮ সালের শেষ দিকে এলাকায় ফিরে আসেন। ক্যামেরা হাতে নিয়ে স্থানীয় সাংসদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে থাকেন। এক সময় সাংসদের ঘনিষ্ঠ লোক এবং অ্যাম্বাসেডর বলে পরিচয় দিতে থাকেন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় অনলাইন প্রেস ক্লাব, ঘোড়াঘাট শাখার সদস্য সচিব, ঘোড়াঘাট উপজেলা ফুটবল একাডেমির পরিচালকসহ যুবলীগ নেতা বলেও পরিচয় দেন তিনি।

গ্রেপ্তার বাবুকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমউদ্দিন বলেন, পুলিশ গ্রেপ্তার করতে গেলে বাবু বাড়ির বারান্দার দরজায় তালা দিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করছিলেন। পরে আইনগত সকল প্রক্রিয়া মেনে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এর আগেও বাবু পুলিশ চাঁদাবাজি করে টাকা উত্তোলন করছে ফেসবুক লাইভে এসে এমন মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। চাঁদাবাজির তথ্যটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। মূলত ছোট ভাই নান্নু গ্রেপ্তার হবার পরেই তিনি এসব মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন।

দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক এমপি বলেন, বাবু একসময় সেনাসদস্য ছিলেন। এলাকায় ফিরে এসে দলের জন্য কাজ করছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি বিপথে চলে যান। এসময় তাকে একাধিকবার শাসনও করা হয়েছে। তাছাড়া তার মানসিক সমস্যাও রয়েছে।

এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর রাতে যুবলীগ নেতা ওয়াকার আহম্মেদ নান্নুকে চাঁদাবাজি, হত্যার হুমকি ও শ্লীলতাহানিসহ বিভিন্ন অভিযোগের দু'টি মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সময় মেডিকেল টেস্টে মাদক সেবনের প্রমাণ মেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে যুবলীগের এই নেতাকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়। নান্নু ঘোড়াঘাট পৌর যুবলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর ঘোড়াঘাট ইউএনওর ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যুবলীগ নেতা ওয়াকার আহম্মেদ নান্নুকে আটক করেছিল পিবিআই। সেই সময় এলাকা জুড়ে বেশ সমালোচিত হন যুবলীগের এই নেতা।