ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ঋণে জর্জরিত যুবকের ফেসবুকে কিডনি বিক্রির পোস্ট

ঋণে জর্জরিত যুবকের ফেসবুকে কিডনি বিক্রির পোস্ট

হুজাইফা তুল ইয়ামানী। ফাইল ছবি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৩ | ১৫:৪৮ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৩ | ১৫:৪৮

গাইবান্ধায় ঋণে জর্জরিত হুজাইফা তুল ইয়ামানী (২৬) নামে এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কিডনি বিক্রির পোস্ট দিয়েছেন। মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক আইডিতে কিডনি বিক্রি করতে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বরসহ স্ট্যাটাস দেন তিনি।

হুজাইফা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের উত্তর ফলিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছর দেড়েক আগে স্বজন ও বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কাছ থেকে মোট ২ লাখ ৭১ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং ও মুদি ব্যবসা শুরু করেন তিনি। কিন্তু পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। মূলধন খুইয়ে দোকান বন্ধ রাখেন হুজাইফা। ঋণ পরিশোধ ও পারিবারিক নানা সমস্যা দূর করতে বাধ্য হয়ে তিনি ফেসবুকে কিডনি বিক্রির পোস্ট দেন।

ফেসবুকে হুজাইফা লেখেন, ‘কিডনি বিক্রি করা হবে, প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন।’ এরপর ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দেওয়া রয়েছে। তাঁর পোস্টের মন্তব্যের ঘরে অনেকে লিখেছেন, ‘শরীরের কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি করা জায়েজ নেই।’ কেউ লিখেছেন, ‘দান করে দেন।’ মন্তব্যের উত্তরে হুজাইফা লিখেছেন, ‘বেশ কিছু ঋণ হয়েছে, পাশাপাশি বেকার আছি আপাতত। যে কাজ পাওয়া যায়, থাকা-খাওয়াসহ খরচ ওঠে না। টাকা না থাকায় ব্যবসাও করতে পারছি না। সব মিলিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত আছি।’ পরে রাতে ফেসবুক পোস্টটি মুছে ফেলেন তিনি।

এ বিষয়ে হুজাইফা সমকালকে বলেন, ‘একদিকে ২ লাখ ৭১ হাজার টাকা ঋণের চাপ; অন্যদিকে স্ত্রী ও দেড় মাস বয়সী সন্তানের ভরণপোষণের খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে কিডনি বিক্রির জন্য ফেসবুকে পোস্ট করেছি।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহাবুর রহমান বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখার পর সত্যিই যদি ওই যুবক ঋণগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে সহযোগিতা করা হবে।

শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেউ বিক্রি করলে অথবা বিক্রিতে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ সাত বছর জেল, তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মাসুদ রানা জানান, কিডনি বিক্রির বিষয়ে কোনো পোস্ট ফেসবুকে চোখে পড়েনি। এমন খবর হরহামেশাই চোখে পড়ে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আল হাসান বলেন, ওই যুবক আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে উপজেলা প্রশাসন বরাবর আবেদন করলে বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

আরও পড়ুন

×