ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

পদ্মা নদীর কোটি টাকার বালু লুটের অভিযোগ

পদ্মা নদীর কোটি টাকার বালু লুটের অভিযোগ

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৩ | ০৫:০৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া, শিলাইদহ ও আশপাশের এলাকার পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন মেসার্স রাসেল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহমেদ। উপজেলার কয়া ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকায় বালুভর্তি বলগেটের ওপর সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

রাসেলের দাবি, উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে নৌ পুলিশের উপস্থিতিতে বালু লুট হচ্ছে। এতে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। তবে নৌ পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রাসেল নাটোরের লালপুরের বালুমহালের স্বত্বাধিকারী। তিনি বলেন, গত পহেলা বৈশাখ লালপুরের বালুমহাল এক বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন প্রায় ১৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকায়। কিন্তু রাজবাড়ী ঘাট থেকে আসা বালু বহনকারী নৌকা ও বলগেট কুমারখালী ও হরিপুর চরে নৌ পুলিশের পাহারায় বালু উত্তোলন করে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করছে প্রভাবশালী চক্র। এতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জানিয়ে রাসেল বলেন, তাঁর বৈধ বালুর নৌকা ও বলগেট যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও সুফল মেলেনি। তিনি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানান। জানা গেছে, হাইকোর্ট এক আদেশে বলেছেন, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থেকে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পর্যন্ত পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে না। পাবনা, কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক কোথাও ইজারা ও বালু উত্তোলনের মৌখিক অনুমোদন দিতে পারবেন না। একই সঙ্গে এসব এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছেন। তবে রাসেলের বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করে ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশের পরিদর্শক ইমদাদুল হক বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তারা নিয়মিত নদীতে টহল দেন। বালু উত্তোলনকারীরা বৈধ কাগজ দেখিয়ে বালু তুলছেন। কাগজ কুমারখালী ভূমি অফিসে আছে। এ বিষয়ে কুমারখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, নদীতে বালু উত্তোলনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাঁর কাছে কোনো বৈধ কাগজ নেই। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×