ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

এমপিকে শোকজ করায় এবার পাল্টা শোকজ

এমপিকে শোকজ করায় এবার পাল্টা শোকজ

সুমন চৌধুরী, বরিশাল

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১০:৪৬

বরিশাল-২ আসনের এমপি শাহে আলমকে শোকজ করায় বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগকে পাল্টা শোকজ করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। সংগঠনের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস স্বাক্ষরিত এ শোকজে বলা হয়েছে, জেলা কমিটিকে না জানিয়ে কোন ক্ষমতাবলে এমপি শাহে আলমকে শোকজ করা হয়েছে তার জবাব আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে। তা না হলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে উপজেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে বানারীপাড়া উপজেলা কমিটির ৪২ জন নেতা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এমপি শাহে আলমকে শোকজ করার বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। দলের দুর্নীতিবাজ নেতারা তাদের অতীত অপকর্ম জায়েজ করার জন্য এমপির কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, পাল্টাপাল্টি শোকজের মাধ্যমে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরোধ নতুন করে তেতে উঠেছে। এমপি শাহে আলম বিরোধীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গত পাঁচ বছর ধরে শাহে আলম এমপির সঙ্গে বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ঠান্ডা বিরোধ চলছে। গত সোমবার শাহে আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে বিষয়টিকে প্রকাশ্যে আনে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ। শাহে আলমও এ কমিটির সদস্য।

জানা গেছে, এমপিবিরোধীরা জেলা সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহকে অভিভাবক হিসেবে জানেন। তাদের দৃষ্টিতে, জেলা আওয়ামী লীগ মানেই হলো আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। তিনি জেলায় আওয়ামী লীগ ঘরানার রাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্যের অধিকারী। এ অবস্থায় শাহে আলম মনোনয়নবঞ্চিত হলে আগামী নির্বাচনে হাসানাত অনুসারীদের মনোনয়নের পথ সুগম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ জন্য উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা শাহে আলমের আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলার সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুসকে নিয়ে প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছেন। আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বিশ্বস্ত নেতা হলেন তালুকদার মো. ইউনুস।

শাহে আলম ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি ছিলেন। তিনি বিগত নির্বাচনে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। এমপি হওয়ার পর তাঁকে ঘিরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় ঘরানার রাজনীতিতে নতুন বলয় তৈরি হয়। এ নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। তবে শাহে আলম এমপির সমর্থকরা সংঘাতে না জড়িয়ে নীরবে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা সরদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত লাল কুণ্ডু ও অধ্যাপক জাকির হোসেন সমকালকে বলেন, সম্প্রতি উত্তরকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ চারজন কর্মচারী নিয়োগে ৫০ লাখ টাকার বাণিজ্য করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে সঙ্গে নিয়ে গত নির্বাচনের পর থেকেই শাহে আলম এমপিকে এড়িয়ে চলছেন। তারা পারতপক্ষে এমপির কর্মসূচিতে যান না।

উজিরপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল বলেন, আগে সরকারি সহায়তা দেওয়ার বেলায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে কাজ করতেন। এমপি শাহে আলম সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে সরকারি সহায়তা তুলে দিচ্ছেন। এ কারণে মধ্যস্বত্বভোগীরা এমপির বিরোধিতা করছে।

এদিকে বানারীপাড়া উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৪২ নেতা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দলকে একটি সংকটের মধ্যে ফেলার ষড়যন্ত্র করছেন। তারা আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। তাদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার সহসভাপতি আব্দুল জলিল ঘরামী বলেন, গত ২৯ আগস্টের বর্ধিত সভায় এমপির বিরুদ্ধে শোকজ করার সিদ্ধান্ত হয়নি। বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা উপদেষ্টা কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম ইউসুফ আলী, প্রতাপ চন্দ্র রায়, এম এ ওহাব, ডা. খোরশেদ আলম সেলিম, মাওলানা আবদুল মতিন, সহসভাপতি খিজির সরদার, এটিএম মোস্তফা সরদার, সিদ্দিকুর রহমান, শহিদুল ইসলাম শাহিন, সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক।

আরও পড়ুন

×