ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

চট্টগ্রামের ২৬ রুটে পরিবহন ধর্মঘট, যাত্রীদের দুর্ভোগ

চট্টগ্রামের ২৬ রুটে পরিবহন ধর্মঘট, যাত্রীদের দুর্ভোগ

পরিবহন ধর্মঘটের কারণে দিনভর চলেনি বাস

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১২:১৩ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১২:২৩

পরিবহন মালিকদের হাতে এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছেন বৃহত্তর দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ। পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার নামে নিজেদের বিরোধের জের ধরে কখনও গাড়ি চলাচল বন্ধ রেখে সভা-সমাবেশ করছেন, আবার ডাকছেন ধর্মঘট। সর্বশেষ বুধবার দিনভর পরিবহন মালিকদের এমন এক ধর্মঘটে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয় বান্দরবান ও কক্সবাজারসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের। 

চট্টগ্রাম-দক্ষিণাঞ্চল-কক্সবাজার-বান্দরবান জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বানে এই ধর্মঘট পালন করা হয়। এতে এসব এলাকার ২৬ রুটের যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কেউ কেউ বিকল্প পরিবহনে গন্তব্যে যেতে পারলেও কয়েকগুণ বেশি বাড়তি ভাড়া গুণতে হয়েছে। আর কেউ কেউ দুর্ভোগের শিকার হয়ে আবার ফেরত গেছেন।

এর আগে ৯ অক্টোবর দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়কের সমস্যা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চল কক্সবাজার-বান্দরবান জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। ওইদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরীর শাহ আমানত সেতু এলাকায় (নতুন ব্রিজ চত্বরে) মানববন্ধন করেন পরিষদের সদস্যরা। এতে এসব রুটের যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। সংগঠনটির সঙ্গে এক হাজারেরও বেশি গাড়ি যুক্ত আছে। এই কর্মসূচি চলাকালে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়কে অন্তত দুই ঘণ্টা যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

বুধবার সকালে নগরীর চান্দগাঁও বাস টার্মিনাল ও শাহ আমানত সেতু এলাকায় গিয়ে যাত্রীরা দেখতে পান যাত্রীবাহী কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। হঠাৎ করে ডাকা এমন ধর্মঘটে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। কাছের পথের যাত্রীরা সিএনজি অটোরিকশায় করে বাড়তি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছালেও দূরপাল্লার শত শত যাত্রীকে বিপাকে পড়তে হয়।

রাশেদ মাহমুদ নামে বেসরকারি একজন চাকরিজীবী জানিয়েছেন, সাতকানিয়া যেতে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শাহ আমানত সেতু এলাকায় বাসের জন্য প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও কোনো বাস পাননি। এভাবে দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয় শত শত যাত্রীকে।

পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, সড়কে শৃঙ্খলা আনা, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধসহ একাধিক দাবিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ-বান্দরবান সড়ক ও উপসড়কে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চল-কক্সবাজার-বান্দরবান জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। যার কারণে এই রুটে কোনো গাড়ি চলেনি। ২৬টি সড়কে সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ ছিল।

 চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চল-কক্সবাজার-বান্দরবান জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মুছা সমকালকে বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছেন পরিবহন মালিকরা। এরই অংশ হিসেবে ধর্মঘট পালন করা হয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ-বান্দরবান সড়ক ও পিএবি বাঁশখালীসহ চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের চট্টগ্রামসহ তিন জেলা এবং এসব জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়ক ও উপসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, সড়কে শৃঙ্খলা আনা, বিআরটিএর অনুমোদন ছাড়া বাস এ রোডে চলাচল নিষিদ্ধ করা, বহিরাগত এসি-নন এসি বাস রুট পারমিটের শর্ত ভঙ্গ করে লোকাল রুটের যাত্রী বহনের কারণে গাড়িতে গাড়িতে অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ করাসহ বিভিন্ন দাবিতে এই পরিবহন ধর্মঘট পালন করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন

×