ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ঘোনাপাড়া থেকে পাথালিয়া পথচারীর মৃত্যুফাঁদ

ঘোনাপাড়া থেকে পাথালিয়া পথচারীর মৃত্যুফাঁদ

মনোজ সাহা, গোপালগঞ্জ

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০

গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে চলে গেছে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক। এ মহাসড়কের সদর উপজেলার গোবরা ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া-পাথালিয়া অংশের ৫০০ মিটার মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত ৯ মাসে এ অংশে ১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক। পথচারী হাঁটার ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা।

গোবরা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান চৌধুরী টুটুল বলেন, ঘোনাপাড়া-পাথালিয়া অংশের ৫০০ মিটারের মধ্যে পড়েছে শেখ রেহানা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই) ও টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (টিটিসি)। ওই অংশে পায়ে হাঁটার রাস্তা না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে বেশি। প্রাণহানির পাশাপাশি বহু মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। এ তিন প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি শরিফুল ইসলাম ওই সড়কের ঘোনাপাড়া-পাথালিয়া অংশটি দুর্ঘটনাপ্রবণ উল্লেখ করে বলেন, ৯ মাসে ১০টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি। দুর্ঘটনার জন্য ওভারটেকিং, যানবাহনের প্রতিযোগিতা ও বেপরোয়া গতিকে দায়ী করে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে তারা চেকপোস্ট বসিয়ে প্রায়ই যানবাহনগুলোকে জরিমানা করছেন। গাড়িচালকদের সতর্ক করছেন।

শেখ রেহানা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ইয়ার্ন ডিপার্টমেন্টের প্রথম ব্যাচের ছাত্র আতিকুর রহমানের ভাষ্য, তিনি ২০২১ সালে এ কলেজে ভর্তি হয়েছেন। তখন থেকে এ পর্যন্ত সড়কের ঘোনাপাড়া-পাথালিয়া অংশে তাঁর সামনে অন্তত ১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত হয়েছেন।

ওই কলেজের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, সড়কে পথচারী চলাচলের কোনো ব্যবস্থা নেই। যতটুকু রাস্তা, সবটুকু দিয়েই দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করে। এখানে জেব্রা ক্রসিং দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ গতিসীমা ৪০ কিলোমিটার লিখে সড়ক বিভাগ সাইন-সিগন্যাল দিয়েছে। কিন্তু কেউ এটি মানে না। এখানে ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চলাচল করে। ডানে-বাঁয়ে দেখে রাস্তা পারাপার হতে গেলেও বিপদ। কারণ, এখানে প্রতিযোগিতা ও ওভারটেকিংয়ের মাধ্যমে গাড়ি চলাচল করে। হর্নে শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। নেই স্ট্রিট লাইট। রাতে সড়কটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। অভিভাবক আজমত হোসেন চৌধুরী বলেন, টেক্সটাইল কলেজে সন্তানকে ভর্তি করিয়ে দুর্ঘটনার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। অনেক অভিভাবক মহাসড়কসংলগ্ন এ কলেজে নিজেদের সন্তান ভর্তি করতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলে জানান তিনি।

গোপালগঞ্জ শেখ রেহানা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার নয়ন চন্দ্র ঘোষ বলেন, সড়কটি নিরাপদ করতে ফুটপাত, ফুট ওভারব্রিজ ও সড়ক প্রশস্ত করতে হবে। এ ব্যাপারে তারা গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছেন। এ ছাড়া গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে থানার ওসির কাছে লিখিতভাবেও জানিয়েছেন।

গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম জানান, তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে যানবাহনের গতি কমাতে জেব্রা ক্রসিং ও সাইন-সিগন্যাল করে দিয়েছেন। এ ছাড়া সড়ক নিরাপদ করতে সড়ক বিভাগের রোড সেফটি ইউনিটকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে। এরপর তারা যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী কাজ করে সড়কটিকে নিরাপদ করা হবে।

আরও পড়ুন

×