ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

চিংড়িতে আগ্রহ কমছে, ধান চাষে ঝুঁকছে কৃষক

চিংড়িতে আগ্রহ কমছে,  ধান চাষে ঝুঁকছে কৃষক

শেখ হারুন অর রশিদ, কয়রা (খুলনা)

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০

‘চিংড়ি চাষে এখন আগের মতো লাভ হয় না; প্রতিবছর দু’বার মরে ভাইরাসে। উৎপাদনও কমেছে। দামের হেরফের আছে। সবদিক বিবেচনায় চিংড়ি চাষ এখন অলাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিলাম ধান চাষের। অনেক দিন পর জমিতে ধান লাগাতে পেরে ভালো লাগছে।’ কথাগুলো বলছিলেন খুলনার কয়রা উপজেলার নয়ানি গ্রামের কৃষক বিকর্ণ মণ্ডল।

২০ বছর পর নোনাপানির চিংড়ি চাষ বাদ দিয়ে ধান চাষে ফিরেছেন এ কৃষক। তিনি জানান, এলাকার প্রায় তিন হাজার বিঘা জমিতে ২০০৩ সালে চিংড়ি চাষ শুরু হয়। এক হাজার কৃষকের জমি থাকলেও সব জমি ইজারা নিয়ে ঘের করেন ২০০ জন। সারাবছর নোনাপানিতে ভরা থাকত বিল। বাধ্য হয়ে পাশের ছোট জমির মালিকরাও চিংড়ি চাষ শুরু করেন। ধীরে ধীরে লবণাক্ততা বসতভিটায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ফলে শাকসবজিও লাগানো যেত না। বিলে চার বিঘা জমি থাকলেও পাঁচজনের সংসারের চালের চাহিদা মিটত না আরেক কৃষক মনমোহন মণ্ডলের। বাড়িতে সবজিও লাগাতে পারতেন না। সবকিছু বাজার থেকে কিনতে হতো। তবে চিংড়ি চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এবার জমিতে নোনাপানি ওঠানো বন্ধ করে ধানের সঙ্গে সবজি চাষাবাদ করছেন।

যদিও কিছু জায়গায় ধানের পাতা লালচে হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে কৃষকরা অভিযোগ করেন, কৃষি অফিসের কারও পরামর্শ পাচ্ছেন না তারা। চাষাবাদের শুরুতেও সহযোগিতা পাননি। কৃষি কর্মকর্তার সহযোগিতা পেলে ধান ও সবজি চাষাবাদ বাড়বে বলে জানিয়েছেন তারা।

এলাকার অনাদি সরকার, সমীরণ মৃধা, নান্টু রায়, দীপক মণ্ডলসহ অনেকের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তারা বাজারের কীটনাশকের দোকানে বসে থাকেন। তারা কৃষকের সুবিধা-অসুবিধা দেখতে মাঠে যান না। কোনো দরকারে তাদের কাছে পরামর্শ চাইলে বিশেষ বিশেষ কোম্পানির কীটনাশক কিনতে পরামর্শ দিচ্ছেন।

অনেক দিন পর গোলায় ধান উঠবে ভেবে খুশি কৃষক সুকুমার ও কুমারেশ মণ্ডল। তারা বলছিলেন, অনেক দূর থেকে ধানের চারা কিনে জমিতে রোপণ করেছেন। তবে তারাও কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন। চিংড়ি ছেড়ে কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ দেখালে ইজারাদার ও ঘের মালিকদের নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য মণি রায়। তিনি জানান, সবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বছরের শুরুতে নদী থেকে নোনাপানি তোলার পাইপ অপসারণ করা হয়। পরে বৃষ্টির পানিতে আমন চাষাবাদ করা হয়েছে। এতে কৃষক পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে। কৃষি অফিসের সহযোগিতা পেলে অনেকে ধান চষে আগ্রহী হবেন।

যদিও কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে দাবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অসীম কুমার দাসের। তাঁর ভাষ্য, অনেক স্থানে সমন্বিত ফসল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন কৃষক। নয়ানি এলাকায় ধান চাষ শুরুর বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। এখন থেকে এলাকার দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে খোঁজ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×