ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

খালে বেড়া ইউপি সদস্যের কৃষিজমির মাটি লোপাট

খালে বেড়া ইউপি সদস্যের কৃষিজমির মাটি লোপাট

টঙ্গিবাড়ির ফজুশাঁ খালে বাঁশের বেড়া দিয়ে বসানো হয়েছে ড্রেজারের পাইপ সমকাল

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৩ | ০৭:৩৫

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে খালে বেড়া দিয়ে কৃষিজমির মাটি লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এর হোতা উপজেলার আড়িয়ল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য একলাস সরদার। রোববার প্রশাসন তাঁর ড্রেজারের পাইপ ভেঙে দেয়। তবে দু’দিনের মাথায় সেই পাইপ জোড়া দিয়ে আবারও মাটি লুট চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওই ইউপি সদস্য।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আনুমানিক দুই মাস ধরে আপরকাঠি, ফজুশাঁ ও নিতিরা এলাকায় একাধিক ড্রেজার বসিয়ে অবাধে কৃষিজমির মাটি কাটছেন ইউপি সদস্য একলাস সরদার। এসব মাটি দিয়ে অন্য এলাকার কৃষিজমি ভরাট চলছে। এ জন্য ফজুশাঁ খালে দেওয়া বাঁশের বেড়ার কারণে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া ফজুশাঁ বাজার-লাগোয়া সড়কের ওপর দিয়ে ড্রেজারের পাইপ নিয়েছেন। ওই জায়গা উঁচু হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় অটোরিকশার চালক শ্যামল বলেন, সড়কটি উঁচু করার কারণে রিকশা চালানোর সময় প্রবল ঝাঁকুনির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যাত্রীরা তাদের গালাগাল করেন। এসহাক মহলদার নামের এক বৃদ্ধ বলেন, কৃষিজমির মাটি কেটে আবার কৃষিজমিই ভরাট করছেন একলাস মেম্বার। তিনি ফজুশাঁ গ্রামের খালও ভরাট করেছেন। এতে বিলের পানি নামতে পারছে না। ফলে এ মৌসুমে আলু চাষে কৃষকদের সমস্যায় পড়তে হবে।

এলাকাবাসী জানায়, একলাস সরদারের নিয়ন্ত্রণে একাধিক ড্রেজার রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফজুশাঁ বাজারে মাংসের ব্যবসা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু টাকার জোরে গত ইউপি নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। এর পর থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। আড়িয়ল ইউপির বর্তমানে চেয়ারম্যান কাদির হাওলাদার বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। যে কারণে তিনি ঢাকার বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ সুযোগে একলাস সরদার বেশ কয়েকটি মাটি খনন যন্ত্র (ড্রেজার) তৈরি করেন। কয়েকটি ভাড়ায় এনে অবাধে মাটি লুট করছেন। এ জন্য পাশের একাধিক ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যকেও ব্যবসার অংশীদার করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একলাস সরদার এরই মধ্যে বসাউল্লাহ বিল থেকে মাটি কেটে বসাউল্লাহ মসজিদের পেছনের বিশাল এলাকার কৃষিজমি ভরাট করছেন। মসজিদের পাশের খালে বেড়া দিয়ে একটি ড্রেজার বসিয়েছেন। আরেকটি ড্রেজার দিয়ে উপজেলার ফজুশাঁ বাজারের পাশে জমি ভরাট করছেন।

এসব তথ্য পেয়ে রোববার ড্রেজারের পাইপ একাধিক স্থানে ভেঙে দেন টঙ্গিবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তবে মঙ্গলবার রাতেই এসব জোড়া দিয়ে আবারও মাটি লুট শুরু হয়। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য একলাস সরদার বলেন, মাটি কাটায় ব্যবহৃত ড্রেজারগুলো তাঁর নয়; পাশের শ্রীনগর উপজেলার এক ব্যক্তির। তবে তাঁর (ড্রেজার মালিক) নাম জানতে চাইলে এড়িয়ে যান। আড়িয়ল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার আবু সালেক বলেন, তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছেন। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মু. রাশেদুজ্জামান।

আরও পড়ুন

×