ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

সংঘর্ষ-হাতবোমা বিস্ফোরণের মধ্যে দিয়ে বগুড়ায় অবরোধ চলছে

সংঘর্ষ-হাতবোমা বিস্ফোরণের মধ্যে দিয়ে বগুড়ায় অবরোধ চলছে

ছবি: সমকাল

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৩ | ০৭:১২ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৩ | ০৭:১২

বগুড়ায় সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, মহাসড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে সারাদেশে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর টানা তিন দিনের সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচির প্রথম দিন পালিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বনানী, মাটিডালি ও বাঘোপাড়া অংশে অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় তারা লাঠিসোটা হাতে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবস্থান নেন। এ ছাড়াও বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে সদরের এরুলিয়ে থেকে কাহালুর দরগাহাটা পর্যন্ত অবরোধ করেন হরতাল সমর্থকরা। 

সংঘর্ষে বিএনপির অন্তত পাঁচ নেতাকর্মী ও আওয়ামী লীগের দুই নেতা আহত হয়েছেন। এছাড়াও সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের দুইটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও দুই সাংবাদিক মারধরে আহত হয়েছেন।

দুপুর পৌনে ১২টার থেকে বগুড়ার শাজাহানপুরের বনানী লিচুতলাতে বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা অন্তত চারটি মোটরসাইকেলে আগুন দেন। এছাড়াও দুইটি ট্রাক ও একটি বাস ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষস্থলে অন্তত ছয়টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ছুঁড়েছে। এ সময় শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরাব হোসেন সান্নু ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক হাতবোমার স্প্রিন্টারে আহত হয়েছেন। পাশাপাশি বিএনপিরও অন্তত পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকাল থেকে অবরোধের সমর্থনে বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজহর হেনার নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীরা মহাসড়কের বনানী লিচুতলাতে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন সান্নুর সমর্থকরা সেখানে গেলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এই প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত থেমে থেমে সেখানে সংঘর্ষ চলছে। 

উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন সান্নু বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে যানবাহন ভাঙচুর করছিল। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাধা দিতে গেলে তারা হামলা চালায়। 

বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান সান্নুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’ 

বগুড়া সদরের বাঘোপাড়ায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে গাড়ি ভাঙচুর চালায় বিএনপি- জামাতের নেতাকর্মীরা। তারা দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের যৌথ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই সময় তারা পার্শ্ববর্তী একটি ইটভাটা থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এ সময় পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে দুইটি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে র‍্যাব-পুলিশ। এ সময় পিকেটাররা একটি ট্রাক ভাঙচুর করে। সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের দুইটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও দুই সাংবাদিক মারধর করা হয়। 

বগুড়া সদর উপজেলার মাটিডালিতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র রেজাউল করিম বাদশার নেতৃত্বে মহাসড়ক অবরোধ করেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা মহাসড়কে ইট-পাটকেল ফেলে টায়ারে আগুনে জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একপর্যায়ে সেখানে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ভাঙচুর করা হলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। 

বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে সদরের এরুলিয়ে থেকে কাহালুর দরগাহাটা পর্যন্ত অবরোধ করে চোরাগুপ্ত হামলা চালিয়ে যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি যানবাহন ভাঙচুর করে পিকেটাররা। পরে বগুড়া সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েক দফা তাদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। 

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার বলেন, জেলার গুটিকয়েক স্থানে দুর্বৃত্তরা চোরাগুপ্ত হামলা চালিয়ে মানুষের জানমালের ক্ষতির চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×