ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

খাবার চাওয়ায় বৃদ্ধ মাকে মারধর

খাবার চাওয়ায় বৃদ্ধ মাকে মারধর

আহত আখিরন নেছা। ছবি: সমকাল

হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৩ | ১২:১৫ | আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৩ | ১৮:১৯

বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন আখিরন নেছা। তাঁর হাত, পা, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ রক্তাক্ত। মানুষ গেলেই অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন এই বৃদ্ধ। চোখেমুখে আতঙ্ক আর ভয়ের ছাপ। কী হয়েছে জানতে চাইলে তাঁর চোখ দুটো বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। বুধবার দুপরে ভাত খেতে চাওয়ায় ছেলে মন্টু মণ্ডল মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে। আখিরন নেছা ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের মৃত মঙ্গল মণ্ডলের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানায়, বিধবা আখিরন নেছার তিন ছেলে। ছোট ছেলে সেন্টু মণ্ডল মারা গেছেন এক বছর আগে। বড় ছেলে ঠান্ডু মণ্ডল অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। মেজো ছেলে মনোয়ার হোসেন মন্টু মণ্ডল পেশায় কৃষক। ছেলেদের সংসারে পালাক্রমে ১৫ দিন করে থাকেন আখিরন নেছা। বছরখানেক আগে বারান্দা থেকে পড়ে গিয়ে ডান পা ভেঙে যায়। আজও জোড়া লাগেনি ভাঙা পায়ের হাড়। তাঁর শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ। স্বামী মারা গেছেন প্রায় ২৩ বছর আগে।

প্রতিবেশীদের ভাষ্য, আখিরন নেছার নামে রয়েছে আট বিঘা জমি। এই জমি লিখে দিতে চাপ দেয় মেজো ছেলে মন্টু মণ্ডল। এ নিয়ে প্রায়ই মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। বুধবার দুপুরে মায়ের খাওয়ার খোঁজও নেয়নি তারা। ক্ষুধার্ত আখিরন নেছা খাবার চাইলে ক্ষীপ্ত হয়ে তাঁকে গালাগাল করে মন্টু মণ্ডল। এক পর্যায়ে মন্টু ও তার স্ত্রী তারা খাতুন আখের খণ্ড ও লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করে।

ইউপি সদস্য বসির উদ্দিন জানান, সন্তানের আঘাতে রক্তাক্ত মাকে দেখতেও আসেনি তাঁর সন্তানরা। তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেনি। পরে খবর পেয়ে পল্লিচিকিৎসক ডেকে এনে চিকিৎসা করান চেয়ারম্যান।

ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবু মিয়া বলেন, ভাত খেতে চাওয়ায় শতবর্ষী মাকে এভাবে মারধর করা খুবই মর্মান্তিক এবং বেনাদায়ক।

এ ঘটনার পর আখিরন নেছার বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তাতে তিনি জানান, তাঁর সঙ্গে প্রায়ই এমন আচরণ করে তাঁর ছেলে মনোয়ার হোসেন মন্টু। ঠিকমতো খেতেও দেয় না। তিনি অসুস্থ, চিকিৎসাও করায় না। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মনোয়ার হোসেন মন্টুর দাবি, মাকে মারধর করা হয়নি। উঠানে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।

হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি আবু আজিফ বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমি তাৎক্ষণিক সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 

আরও পড়ুন

×