ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

নির্বাহী প্রকৌশলী না থাকায় উন্নয়নকাজে স্থবিরতা

নির্বাহী প্রকৌশলী না থাকায় উন্নয়নকাজে স্থবিরতা

ছবি: সংগৃহীত

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৩ | ০৩:০৪ | আপডেট: ১১ নভেম্বর ২০২৩ | ০৩:০৪

সাত মাস ধরে ফাঁকা শেরপুর গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ। অফিস প্রধান না থাকায় এই অধিদপ্তরের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন পাশের জেলা জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী। সপ্তাহান্তে এক দিন আসেন তিনি। আবার নিজ জেলায় কাজের চাপে কখনও কখনও দুই সপ্তাহ পরও এক দিন এসে খোঁজখবর নিচ্ছেন। কিন্তু এতে একটি জেলার সব কাজ কিছুতেই তাঁর পক্ষে করা সম্ভব হচ্ছে না।

চলতি বছরের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বদলি হয়ে যান নির্বাহী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী। এর পর থেকে পদটি ফাঁকা রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সবকিছু জানার পরও এ জেলায় নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারদের ভাষ্য, শেরপুরে তিনটি মডেল মসজিদ ও বধ্যভূমি নির্মাণকাজ চলছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে লিফট সচল রাখাসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সার্বক্ষণিক নির্বাহী প্রকৌশলীর সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পুলিশ লাইন্স, সার্কিট হাউসসহ বিভিন্ন সরকারি অধিদপ্তরে নিত্যদিনের উন্নয়নকাজ সম্পাদন করতে হয়। এ ছাড়া কাজের বিল, জামানত সময়মতো উঠাতে পারছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রধান কর্মকর্তা না থাকায় এসব কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।

সরেজমিন ঝিনাইগাতী, নকলা ও শেরপুর জেলা মডেল মসজিদের কাজ দেখতে গিয়ে জানা গেছে, গত সাত মাসে উন্নয়নকাজ দেখতে আসেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী। উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী এসব প্রকল্পের কাজ মাঝে মধ্যে এসে দেখভাল করছেন। ঠিকাদার নিজের মতো করে কাজ করছেন। ফলে নির্মাণকাজ মানসম্মত হচ্ছে কিনা, প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের সামনেই নির্মিত হচ্ছে মডেল মসজিদ। সেখানে দেখা যায়, সামনে টিনের বেড়া দিয়ে ভেতরে কাজ করছেন ঠিকাদার। স্থানীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি বেলায়েত হোসেনের কাছে মসজিদের কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, ঠিকাদার নিজের মতো করে কাজ করছেন। দেখার কেউ নেই। তিনি বলেন, কাজ শুরু হওয়ার পর গত সাত মাসে এক দিনও দেখতে আসেননি নির্বাহী প্রকৌশলী। এখন বুঝে নেন কেমন কাজ হচ্ছে।

ঠিকাদার আবদুল্লাহ আল মামুনের ভাষ্য, জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসে এক দিনও শেরপুরে আসেন না। এ কারণে সময়মতো বিল ও জামানত নিতে পারছেন না ঠিকাদাররা। তাঁর অভিযোগ, প্রায় তিন মাস আগে একটি কাজের জামানত পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন তিনি। কিন্তু জামানত পাচ্ছেন না। জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও স্থবির হয়ে গেছে।

শেরপুর জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জসীম উদ্দিন বলেন, হাসপাতালের লিফট রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি উন্নয়ন কাজে নির্বাহী প্রকৌশলীর সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন। সাত মাস ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গণপূর্ত অধিদপ্তরের তাৎক্ষণিক সহায়তা পাচ্ছেন না। জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে এসডি অনুমতি নিয়ে কাজ করছেন। ফলে কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় শেরপুর গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি) আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। সমকালকে তিনি বলেন, ‘নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুপস্থিতিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আসছেন এবং খোঁজখবর রাখছেন। সাইট সাধারণত এসডি এবং উপসহকারী প্রকৌশলীরা দেখে থাকেন। সেটা ঠিকভাবেই হচ্ছে। কাজের গুণগত মান নিয়ে কোনো আপস করা হচ্ছে না।’

শেরপুরে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত জামালপুরের গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোবারক হোসেনের ভাষ্য, দুই জেলার দায়িত্ব পালন করা কষ্টকর। তবে শেরপুরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কম থাকায় সমস্যা হচ্ছে না।

আরও পড়ুন

×