ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ধর্ষণের বিচার না পেয়ে ‘আত্মহত্যা’ শিক্ষার্থীর

ধর্ষণের বিচার না পেয়ে ‘আত্মহত্যা’ শিক্ষার্থীর

ম্যাপ

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৩ | ২৩:০৫

বাবার মৃত্যুর মা বিয়ে করে অন্যত্র চলে যান। দাদা-দাদির কাছে থেকেই পড়ালেখা করছিল ফারিয়া ইয়াসমিন ঝিনুক। কিন্তু অসহায় মেয়েটির ওপর কুদৃষ্টি পড়ে চাচা রাকিবুল ইসলাম মিন্টুর। কয়েক দিন আগে করে ধর্ষণ। 

বিষয়টি কাউকে না জানানোর হুমকি দিয়ে পাশবিক অত্যাচার করতেই থাকে তার চাচা। এক পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে মেয়েটি তার দাদা-দাদি, প্রধান শিক্ষক ফুপা শেখ ফরিদকে জানায়। কিন্তু কোনো বিচার পায়নি। 

তাই চিরকুট লিখে ওই প্রধান শিক্ষকের বাড়িতেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় সে। ১২ নভেম্বর শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের সাহাব্দীচর দশআনীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

উম্মে সালমা বিদ্যানিকেতনের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঝিনুক (১৫) চিরকুটে লেখে, ‘আমি বিচার পাইলাম না বলিয়া, মহাপাপ জানিয়াও আত্মহত্যা করিলাম।’ তার চাচা মিন্টুও একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার স্থানীয় কামারেরচর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, বাবা উমর ফারুকের মৃত্যুর পর বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেছেন ঝিনুকের মা কমলা বেগম। দাদার বাড়িতেই থাকত ঝিনুক ও তার ছোট ভাই। মা-বাবা না থাকায় অসহায় ছিল ঝিনুক। এ সুযোগে ভাতিজির ওপর কুদৃষ্টি পড়ে চাচা মিন্টুর। মাঝে মধ্যেই ভাতিজিকে ডেকে নিজের ঘরে নিয়ে যেত। কয়েক দিন আগে তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে না জানানোর হুমকি দিয়ে পাশবিক অত্যাচার করতেই থাকে সে। নিরুপায় হয়ে ঘটনাটি দাদা-দাদি ও  বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফুপা শেখ ফরিদকে জানায় মেয়েটি। কিন্তু বিচারের আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন তারা। তাই হতাশ হয়ে চিরকুট লিখে ১২ নভেম্বর সকালে প্রধান শিক্ষক বাড়িতে আত্মহত্যা করে মেয়েটি। এ ঘটনায় সাতজনের নামে আদালতে অভিযোগ দিয়েছেন তার মা কমলা বেগম। 
বিচারক সদর থানার ওসিকে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

কমলা বেগমের অভিযোগ, মেয়ের মৃত্যুর পর সদর থানায় অভিযোগ দিতে আসেন তিনি। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁকে লাশ দাফন করে পরে অভিযোগ নিয়ে আসতে বলেন। তাই তিনি আদালতে অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আপন চাচার কাছে ধর্ষণের শিকার হয়ে তার মেয়ে ঝিনুক ফুপা শেখ ফরিদের বাড়িতে আশ্রয় নেন। ঘটনাটি বান্ধবীরদের কাছেও জানা। বিষয়টি সবাইকে জানানোর পরও ফুপা সবকিছু গোপন রাখতে বলেন। ১২ নভেম্বর বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর তাকে হুমকি দেয় চাচা মিন্টু। এরপর সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

ঘটনার পর থেকে পলাতক উম্মে সালমা বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক শেখ ফরিদ ও শিক্ষক রাকিবুল ইসলাম মিন্টু। অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার কল দিলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

তবে কমলা বেগমের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শেরপুর সদর থানার ওসি বছির আহমেদ বাদল। তাঁর ভাষ্য, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। এরপর দুই পক্ষই লাশ দাফন করার জন্য থানায় আসে। পুলিশের তরফ থেকে লাশ দাফনের পর থানায় অভিযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু আদালতে অভিযোগ দেওয়া হয়। 

তিনি বলেন, বিচারক তাকে ডেকে ছিলেন। তারা সবকিছু জানিয়েছেন। তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।

আরও পড়ুন

×