ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ফোনালাপ ছড়িয়ে দেওয়া ব্যক্তি চিহ্নিত করতে থানায় জিডি

‘অন্যজনকে চাকরিটা দিলে টাকাটা সাথে সাথে পেয়ে যেতাম’

ইবি ছাত্রলীগ সভাপতির ফোনালাপ ভাইরাল

‘অন্যজনকে চাকরিটা দিলে টাকাটা সাথে সাথে পেয়ে যেতাম’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৩ | ১৯:১৩

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চালক নিয়োগে বাণিজ্য বিষয়ে ছাত্রলীগের শাখা সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতের একটি ফোনালাপ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোড়ন দেখা দিয়েছে।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আরাফাত। ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া ব্যক্তি চিহ্নিত করার আবেদন করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি কামরুল হাসান অনিক।

বুধবার সানজিদা আক্তার তানিয়া (ইংরেজি বানানে) নামের এক ফেসবুক আইডি থেকে ৪ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের অডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এতে চালক নিয়োগের সময় টাকা না পেয়ে আরাফাতকে ক্ষোভ ঝাড়তে শোনা গেছে।

তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘দুইটা নিয়োগের একটা পুরো পেয়েছে জয় (ইবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক)। নিজের বুঝটা পেয়েছে বলে এখন তার কোনো জ্বালা নেই। না হলে জয় এতক্ষণে পাগলা কুত্তার মতো হয়ে যেত। আর মিলন (নিয়োগ পাওয়া চালক) আমার বাড়ির পাশের আত্মীয় বলে তারটা আমাকে বুঝে নিতে বলেছে। ২০ লাখ দেওয়ার কথা সেই কবে! অন্যজনকে চাকরিটা দিলে টাকাটা সাথে সাথে পেয়ে যেতাম।’

৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬১তম সিন্ডিকেট সভায় তিন চালকের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তাদের একজন আল মাহমুদ মিলন। পরিবহন শাখা কর্মকর্তা মিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি ক্যাম্পাসের একটি মিনিবাস চালিয়ে আসছেন। তবে তা ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় তাঁকে কর্মবিরতিতে রাখা হয়েছে।

প্রথম অডিও ছড়িয়ে পড়ার পরদিন একই ফেসবুক আইডি থেকে ৩ মিনিট ১২ সেকেন্ড ও ৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের আরও দুটি অডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে আরাফাতকে বলতে শোনা যায়, ‘ও হচ্ছে (মিলন) দশ (১০ লাখ টাকা) দিয়ে যাক। দশ না হয় পাঁচ দিয়ে যাক, সমস্যা কি! আমার টাকা কেন মারবে?’

ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিপুল হোসেন খানের নাম উল্লেখ করে আরাফাত বলেন, ‘৩ তারিখের কথা বলে আজ দেড় মাস হয়ে গেল। কী করবে তা আমার দেখার বিষয় না। আমার ট্যাকা দিয়ে যাও। মাগুরার আমার এক ভাইকে (চাকরি) দিলে ২৫ লাখ টাকা পাতাম আমি। টাকা নিয়ে বসে ছিল। ওই আমার বিপুল আছে, বিপুলের ওখানে... (অস্পষ্ট) টাকা বাঁচায় দিলাম, খুশি হয়ে গেল। ওর (মিলন) চাকরির জন্য হাবিবুরের চাকরি হলো না, সে আমার ভাগনে হয়। হেলপারের চাকরির জন্যই ২০ লাখ টাকা দিতে চায়, এটা তো ড্রাইভার!’

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়ের কাছে এগুলো ‘নির্বাচনে আগে ষড়যন্ত্র’ ছাড়া আর কিছুই নয়। 

এ ঘটনায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ এনে ইবি থানায় শুক্রবার সন্ধ্যায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৯৬৮) করা হয়েছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আন নূর যায়েদ বিপ্লব। ওই জিডি করেন শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি কামরুল হাসান অনিক। এতে তিনি অডিও ধারণকারী ও প্রচারকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।

এ বিষয়ে চালক আল মাহমুদ মিলন বলেন, ‘আমি আগেও বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি চালাতাম। পরীক্ষা দিয়েই এখানে চাকরি পেয়েছি। তাঁর (আরাফাত) সঙ্গে আমার কোনো লেনদেন নেই। সে তো সম্পর্কে আমার ভাতিজা হয়।’

ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমিও বিষয়টা শুনলাম। তবে ব্যক্তিগতভাবে এর সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। যেমনটি শোনা গেছে অডিওতে, এমন কোনো সুযোগ-সুবিধা আমি কখনও পাইনি।’ এটিকে চক্রান্ত দাবি করে বলেন, তিনিও জিডি করবেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের মোবাইল ফোনে কয়েক দফা কল দিলেও তারা ধরেননি।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন বিভাগের প্রশাসক অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য, এ নিয়োগগুলোতে বিআরটিএ প্রতিনিধিরা গাড়ি চালানোর দক্ষতা দেখে বাছাই করেন। এ ছাড়া নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চালক নিয়োগ দেওয়া হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম বলেন, অডিওর সত্য-মিথ্যা তাঁর জানা নেই। একজন চালক কী করে ২০ লাখ টাকা দিতে পারেন– এমন প্রশ্ন ছুড়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য, ‘নিয়োগ আমার সময়ে হতে পারে; তবে আমি ২০ টাকাও খাইনি।’

আরও পড়ুন

×