ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

কিশোরগঞ্জে বগি লাইনচ্যুত, ১৯ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু

কিশোরগঞ্জে বগি লাইনচ্যুত, ১৯ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু

আন্তনগর কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনের বগি শনিবার বিকেলে কটিয়াদীর গচিহাটা রেলস্টেশনে লাইনচ্যুত হয়। ছবি: সংগৃহীত

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৩ | ২১:৪৫ | আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২৩ | ২১:৫২

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। এতে ইঞ্জিনসহ দুটি বগি লাইনের বাইরে চলে যাওয়ায় এ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আজ রোববার সকাল ১১টার দিকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। 

এর আগে গতকাল শনিবার বিকেল সোয়া ৪টায় উপজেলার গচিহাটা স্টেশনে প্রবেশের আগে এ দুর্ঘটনায় পড়ে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস। এ ঘটনায় ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের ডিটিও খাইরুল কবির বলেন, লাইন ও বগি উদ্ধারের পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ থেকে বিকেল ৪টায় ছেড়ে যায় কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস। সোয়া ৪টায় গচিহাটায় প্রবেশ করতে গেলে এক নম্বর লাইন দেওয়া হয়। সেটি নির্মাণাধীন ও ত্রুটি পূর্ণ হওয়ায় স্টেশনে ঢোকার আগেই লাইনটি বেঁকে ও ভেঙে যায়। এতে দুটি বগি সরে যায়। তবে কোনো বগি উল্টে যায়নি। আটকে পড়া যাত্রীরা বিকল্প পথে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

উত্তেজিত হয়ে তাড়াহুড়া করে নামার সময় আহত হয়েছেন সাত থেকে আট যাত্রী। স্টেশন কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
 
কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রী রিয়াজ উদ্দিন দাবি করেন, ট্রেনটি দুপুরে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যায়। আবার সেটি ঢাকা ফিরছিল। এর আগের যাত্রায় একই ট্রেনে তিনি ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যান। যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার স্থানটি পার হওয়ার সময় ট্রেনটি বিপজ্জনকভাবে দুলছিল। এতে থেকে বোঝা যায়, লাইনে আগে থেকেই বড় ধরনের ত্রুটি ছিল। সেটি মেরামত না করেই নতুন করে আরেকটি ট্রেনকে একই লাইনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

কিশোরগঞ্জের স্টেশন মাস্টার মিজানুর রহমান বলেন, দুটি ট্রেন একই সময়ে স্টেশনে আসায় ত্রুটিপূর্ণ এক নম্বর লাইনে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। 

গচিহাটা পুলিশ ফাঁড়ির ইনর্চাজ নুরুজ্জামান বলেন, আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তা ও বিকল্প রাস্তায় বাড়ি ফেরার কাজে সহযোগিতা করছি। 

গছিহাটার স্টেশন মাস্টার সাহাবুদ্দিন ফকির বলেন, আখাউরা থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন এসে লাইন ও ইঞ্জিনের বগি উদ্ধার করে। এরপর রোববার সকাল ১১টায় এগারো সিন্দুর প্রভাতী ট্রেনটি মানিকখালি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। 

মানিকখালির স্টেশন মাস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়া বলেন, লাইন মেরামতের পর রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম টিপুর অভিযোগ, গচিহাটা স্টেশন মাস্টার সাহাবুদ্দিন নেশাগ্রস্ত। তিনি নিজে অফিস করেন না। অবসর পাওয়া কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিতে এনে তাদের দিয়ে বদলি ডিউটি করান। তাছাড়া টিকিট কালো বাজারিও করেন তিনি। এ ব্যাপারে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান সরেজমিন তদন্ত করে ১৫-২০ দিন আগে একটি প্রতিবেদন রেল অধিদপ্তরে পাঠিয়েছেন। কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি। 

ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কিন্তু স্টেশনে লাইনম্যান আতাউর রহমান ও সহকারী স্টেশন মাস্টার দ্বীন ইসলামকে পাওয়া যায়নি। 

গচিহাটার স্টেশন মাস্টারের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রেল মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও কাজ হয়নি।

আরও পড়ুন

×