ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আ.লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত আবুল কালাম ৩ হত্যা মামলার আসামি

গাইবান্ধা-৪ আসন

আ.লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত আবুল কালাম ৩ হত্যা মামলার আসামি

আবুল কালাম আজাদ - ফাইল ছবি

রংপুর অফিস ও গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৩ | ২২:৫৮

আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মো. আবুল কালাম আজাদ। সাঁওতাল সম্প্রদায়ের তিন ব্যক্তি, এক সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক ছাত্রনেতা হত্যা মামলার আসামি তিনি। আগামী ৭ জানুয়ারির ভোটে তাঁকে নৌকার প্রার্থী করায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।

এ আসনে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন ১৩ জন। মো. আবুল কালাম আজাদ ছাড়া অন্য আবেদনকারীরা হলেন– বর্তমান সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ প্রধান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেস আলী প্রধান বাদু, স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আলহাজ নাজমুল হাসান লিটন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইবনে আজিজ মো. নুরুল হুদা ফরহাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রধান আতাউর রহমান বাবলু, ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান সিরাজ, জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার শাহজাহান আলী সরকার, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সভাপতি অধ্যক্ষ এ কে এম আবদুর নূর, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ভারত সভাপতি এম এ শামীম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম প্রধান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য কামরুল হাসান ফাহিয়ান।

স্থানীয়রা জানান, মনোনয়নপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদ এক সময় জাসদ ও বাসদ ছাত্রলীগ করতেন। ১৯৮৬ সালে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মইনুল আক্তার রুবেল হত্যা মামলায় কারাগারে যান তিনি। কারাগারে থাকা অবস্থায় ১৯৮৮ সালে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ব্যালট ছিনতাই করে তিনি ওই নির্বাচনে জয়ী হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পর যোগ দেন আওয়ামী লীগে। পরে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হয়ে বিএনপি-জামায়াতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। এর পর এমপি আলহাজ প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সমর্থনে ২০০৯ সালে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রার্থী আলহাজ মনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন আবুল কালাম আজাদ। এমপি হওয়ার পর তিনি মিথ্যা মামলা দিয়ে সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হয়রানি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, গত ইউপি নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে গোবিন্দগঞ্জের ১৬টি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি।

নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সহকারী কমিশনার (ভূমি) অবিদীয় মার্ডি হত্যা মামলার আসামি। মামলাটি এখন আদালতে বিচারাধীন। এ ছাড়া ২০১৪ সালে রংপুর চিনিকলের জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে আদিবাসী সাঁওতালদের ডেকে আনেন তিনি। পরে চিনিকলের পুরো জমি তারা দখলে নেন। এর পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চাপ সৃষ্টি করলে পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা সাঁওতালের বসতবাড়িতে আগুন দেয়। এতে নিহত হন তিন সাঁওতাল। এ ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে আবুল কালাম আজাদসহ ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন সাঁওতালরা। কিন্তু পুলিশ মামলায় আবুল কালাম আজাদকে বাদ দিয়ে চার্জশিট দেয়। এতে নারাজি দেন মামলার বাদী। এ মামলাটিও গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে বিচারাধীন।

এ ছাড়া ১৯৮৬ সালে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মইনুল হাসান রুবেল হত্যা মামলার আসামি তিনি। মামলাটি এখন হাইকোর্টে রয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ২২ কোটি টাকার চাল আত্মসাতের ঘটনায় দুদকের তদন্তে তাঁর নাম আসে। তাঁর বিরুদ্ধে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুরের মামলাও হয়।

সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি পুনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি আদিবাসী নেতা ডা. ফিলিমন বাস্কে বলেন, ‘আবুল কালাম আজাদ এসিল্যান্ড অবিদীয় মার্ডি ও তিন সাঁওতাল হত্যা মামলার আসামি। এসব মামলা এখনও চলমান। তাঁকে কীভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়।’ আবুল কালাম এমপি হলে আবারও অস্থিরতা এবং অপরাধ বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অবিলম্বে তাঁর মনোনয়ন বাতিলের দাবিও জানান আদিবাসী এই নেতা।

আরও পড়ুন

×