ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

জোটের সমীকরণে নৌকা পেয়েও হারানোর ভয়

জোটের সমীকরণে নৌকা পেয়েও হারানোর ভয়

প্রতীকী ছবি

 তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৩ | ০০:২৬ | আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০২৩ | ০৬:২১

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে শরিক তরীকত ফেডারেশন। জোটগত নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনটি তরীকত ফেডারেশনকে ছেড়ে দিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ। এখানে নির্বাচন করেন তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। আসন ভাগবাটোয়ারা না হলেও এবার সমমনা দলকে আওয়ামী লীগ যেসব আসন ছাড়তে পারে, তার মধ্যে অন্যতম হলো চট্টগ্রাম-২। যদি আসনটি আওয়ামী লীগ ছেড়ে দেয়, সে ক্ষেত্রে কপাল পুড়বে খাদিজাতুল আনোয়ার সনির। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। 

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা ও ফটিকছড়ির সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। একাদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি তিনি। এবার আসনটিতে দলের অনেক প্রভাবশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পেয়েছেন সনি। এর পরও এক ধরনের হারানোর ভয় রয়েছে তাঁর মধ্যে। কারণ তরীকত ফেডারেশনকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হলে সরে আসতে হবে তাঁকে।

মনোনয়ন পাওয়ার পর দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে সনি বলেন, ‘আমাকে মনোনয়ন দেওয়ায় এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হলো। আমি জয় উপহার দিতে চাই।’

এদিকে আসনটি নিয়ে বেশ আশাবাদী তরীকত ফেডারেশনের প্রধান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি সভা-সমাবেশে বলে আসছেন, আগের মতোই আসনটি তরীকত ফেডারেশনকে ছেড়ে দেবে আওয়ামী লীগ। এ ব্যাপারে সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী সমকালকে বলেন, ‘তরীকত ফেডারেশন হলো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটের অন্যতম একটি শরিক দল। আমরা এখনও জোটে রয়েছি। এর আগের নির্বাচনে আসনটি আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জোটের প্রার্থী হিসেবে আমি জয়লাভ করেছি। এবারও আওয়ামী লীগ আসনটি আমাদের ছেড়ে দেবে এবং আমি নির্বাচন করব।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালেও এই আসনে সনিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আমি নির্বাচনে জয়লাভ করি। এবারও তাই হবে।’

নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে প্রথম সংসদ সদস্য হন। ১৯৯৪ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি জয়লাভ করেন। ২০০১ সালে বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী রফিকুল আনোয়ারের কাছে পরাজিত হন। পরে বিএনপি ছেড়ে তিনি গঠন করেন তরীকত ফেডারেশন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয় তরীকত ফেডারেশন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও এই জোটের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন তিনি।

ফটিকছড়িতে এবার নির্বাচন করতে চান নতুন নিবন্ধন পাওয়া বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) প্রধান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ। তিনি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর ভাতিজা। ফলে অন্যরকম এক নির্বাচনী লড়াই চলছে এখানে। হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীরও এখানে ভোট ব্যাংক রয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। 

খাদিজাতুল আনোয়ার সনির মতোই দুশ্চিন্তা রয়েছে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালামের। জোটগত নির্বাচনে আসনটি জাতীয় পার্টিকে (জাপা) ছেড়ে দিয়ে  আসছে আওয়ামী লীগ। এবারও সেরকম হবে কিনা– তা পরিষ্কার নয়। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে এখানে জয়লাভ করেন জাপার কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তাঁর বাড়ি এখানে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাপার দৃশ্যত ‘সমঝেতা’ না হলেও আসনটি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন আনিসুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। ২০১৮ সালে তিনি এখানে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন, জয়লাভ করতে পারেননি। কয়েক দিন আগে তিনি নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তারও বাড়ি হাটহাজারীতে। ফলে তাদের দু’জনের মধ্যে কেউ একজন আওয়ামী লীগের সমর্থন পেলে কপাল পুড়বে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম এ সালামের। রাজনীতিতে সজ্জন হিসেবে পরিচিত এম এ সালামের এলাকায় বেশ জনপ্রিয়তাও রয়েছে।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, সৈয়দ ইবরাহিমকে এবার চট্টগ্রামের যে কোনো একটি আসন দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। আসনটি হাটহাজারী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে অন্য আসনেও আওয়ামী লীগ তাঁকে সমর্থন করতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। 

এ ব্যাপারে এম এ সালাম সমকালকে বলেন, ‘জোটের হিসাব শেষ। নির্বাচনের মাঠ সবার জন্য উন্মুক্ত। যে কেউ নির্বাচন করতে পারেন। জনপ্রিয়তা থাকলে জয়লাভ করবেন। আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, আমি কাজে নেমে পড়েছি। আসনটি শেখ হাসিনাকে উপহার দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য।’ 

আনিসুল ইসলাম ও সৈয়দ ইবরাহিমের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা চাইলে নির্বাচন করবেন, তাতে কোনো সমস্য নেই। এলাকার মানুষ দলীয় প্রার্থী চেয়েছে এবং শেখ হাসিনা তা দিয়েছেন। এবার জোটের সমীকরণ কাজ করবে না।’ 
 

আরও পড়ুন

×