ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

পদত্যাগ করে ইনুর আসনে মনোনয়নপত্র কিনলেন উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল

পদত্যাগ করে ইনুর আসনে মনোনয়নপত্র কিনলেন উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামারুল আরেফিন। ছবি-সংগৃহীত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৩ | ১৬:৪১

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন মিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামারুল আরেফিন। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. এহেতেশাম রেজার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন কামারুল আরেফিন। এরপর সেখান থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

এ সময় তার সঙ্গে মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা ছাড়াও জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামারুল আরেফিন বলেন, কুষ্টিয়া-২ আসনটি ফাঁকা রাখা হয়েছে। যদি আমাকে দল নৌকা দেয় তাহলে আমি দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করব। আর দল না দিলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার জন্য আজ পদত্যাগ করলাম। আমাদের দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচন উৎসবমুখর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে হবে। তাই আমি উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে জনতার কাতারে চলে এসেছি। জাসদ নেতা ইনু সাহেব আওয়ামী লীগের ৮০ ভাগ ভোটের ওপর ভর করে বিগত তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছে। ওনার ২০ ভাগ ভোট নিয়ে এবার নির্বাচন করতে হবে।

তিনি বলেন, তার (ইনুর) সময় মিরপুর ভেড়ামারায় আওয়ামী লীগের ৪ জন নেতাকর্মী হত্যা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাই তাকে আর এমপি হিসেবে দেখতে চায় না। দুই উপজেলার নেতাকর্মীরা মুখিয়ে আছে আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য। নেতাকর্মী ছাড়াও দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের নেতা আমি, আমি জনগণের সঙ্গে থাকতে চাই।

গত তিনটি নির্বাচনে পরপর কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন ইনু। ২০১৪ সালে নির্বাচিত হয়ে তথ্যমন্ত্রী হন। পরপর তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় নির্বাচিত হন ইনু। বিগত তিনটি নির্বাচনে সহজেই পার হলেও এবার ইনুর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন।

কুষ্টিয়া-২ আসনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেয়নি। আসনটি এখনও ফাঁকা রাখা হয়েছে। ইনুকে ছাড় দেওয়ার জন্য আসনটি ফাঁকা রাখা হয়েছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। বিএনপি-জামায়াত না আসায় এবার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ইনুকে ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নেতাকর্মীদের মতামত নিয়ে কামারুল আরেফিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

মিরপুর উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার বলেন, জাসদের প্রতি নানা ক্ষোভ রয়েছে নেতাকর্মীদের। আওয়ামী লীগের ভোটে ইনু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও তিনি সম্পর্ক রাখেন না। উল্টো গত দুই বছরে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে হত্যা করেছে জাসদের নেতাকর্মীরা। এছাড়া হামলা-মামলা দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের কোণঠাসা করে রাখার চেষ্টা করেছে জাসদ।

এদিকে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে পুনরায় নির্বাচন করার জন্য জাসদ সভাপতি বর্তমান এমপি হাসানুল হক ইনু মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

হাসানুল হক ইনু বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে আমরা জোটগতভাবে নির্বাচন করে আসছি। এবারও জোটগতভাবে আমি প্রার্থী হবো। কুষ্টিয়া-২ আসনে কাউকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। জোটগত ভাবে মনোনয়ন ফয়সালা হলে সবাইকে নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামব।

তিনি বলেন, এবার নির্বাচন হবে উৎসবমুখর, ভোটাররা ভোট দিতে কেন্দ্রে আসবে। মনোনয়ন যে কেউ তুলতে পারবে, তবে শেষ পর্যন্ত দেখতে হবে কি হয়।

আরও পড়ুন

×