ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

সড়কে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা

সড়কে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা

সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার বাইপাস মোড়ে যাত্রী ওঠানোর জন্য থামিয়ে রাখা বাসের সারি -সমকাল

 সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৩ | ২২:১৯

সুন্দরগঞ্জে বাস থামার নির্ধারিত জায়গা নেই। নেই টার্মিনালও। এমন পরিস্থিতিতে কখনও সরকারি জায়গায় কখনও বা সড়কের ওপরই বাস রেখে যাত্রী ওঠানো-নামানো হয়। ফলে ওই এলাকায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিড়ম্বনায় পড়ছেন যাত্রীরা। ঝড়-বৃষ্টি ও রোদে কষ্ট করে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। 
এদিকে ২০১০ সালে পৌরসভা পূর্ব বাইপাস মোড়ে বাস টার্মিনালের জন্য ৯০ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মাটি ভরাটসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে টার্মিনালটি আজও চালু হয়নি। এরই মধ্যে পৌরসভা ৩০ শতক জমির ওপর পানি সাপ্লাই স্টেশন (ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) নির্মাণ করেছে। এতে জায়গা কমে যাওয়ায় সেখানে টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হচ্ছে না দাবি মালিক ও শ্রমিকদের। বাস মালিক খয়বর হোসেন মওলা জানান, টার্মিনালের নামে অধিগ্রহণ জমিতে পৌরসভা পানি সাপ্লাই স্টেশন নির্মাণ করেছে। এটি অনিয়ম এবং অন্যায়। 

এ প্রসঙ্গে সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পানি সাপ্লাই স্টেশন নির্মাণের জন্য প্রকল্প কর্তপক্ষ ওই ৩০ শতক জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছে। বাকি জায়গা টার্মিনালের জন্য 
রাখা রয়েছে। মাটি ভরাট না করায় বর্তমানে সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

শ্রমিক নেতা, পরিবহন চালক, যাত্রীসহ ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে সুন্দরগঞ্জ একটি অবহেলিত উপজেলা। অথচ এ উপজেলার ওপর দিয়ে দূরপাল্লাসহ ৪০টি পরিবহন চলাচল করে। খেটে খাওয়া মানুষগুলো এ সব পরিবহনে বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে। টার্মিনাল না থাকায় তাদের দুর্ভোগের অন্ত নেই। তেলের পাম্পে, পরিত্যক্ত জায়গায় গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করছে পরিবহন শ্রমিকরা। একইভাবে গাড়ি পরিষ্কারের কাজটিও সারতে হচ্ছে সড়কের ওপর। ব্যবসায়ীদের মালপত্র সরবরাহের জন্য ট্যাঙ্ক, লরি, ট্রাক রাখারও কোনো জায়গা নেই। শিগগিরই বাসস্ট্যান্ড চালুর দাবি শ্রমিক, মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের। 
কথা হলে যাত্রী আনিছুর রহমান জানান, উপজেলার ওপর দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে। অথচ বাস থামার নির্ধারিত জায়গা নেই। সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সব সময় যানবাহনের চাপ থাকায় এমন পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়লে এমন ভোগান্তি হতো না।
মোটরসাইকেল চালক অজিত কুমার রায় জানান, বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ঢাকাগামী কোচগুলো সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায়। সামনের কিছু দেখা যায় না। এভাবে ছোটোখাটো যানবাহন চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর বলে জানান তিনি। 

পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ রেজা সরকার ডবলু জানান, বাসস্ট্যান্ডের নির্ধারিত জায়গায় আপাতত বাস সার্ভিস চালু করার জন্য মাটি ভরাটসহ টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস মালিকরা সেখানে বাস রাখছেন না। তারা রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রীসেবার নামে ভোগান্তি বাড়াচ্ছেন। তবে পৌর ফান্ডে অর্থ জমা হলে টার্মিনালের কাজ ধরা হবে বলে জানান তিনি। 
বাস, মিনি বাস ও মাইক্রোবাস শ্রমিক সমিতির সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দহবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম সরকার রেজা জানান, টার্মিনালের কাজ শেষ না হওয়ায় পরিবহন মালিকরা সেখান থেকে গাড়ি ছাড়ার ব্যবস্থা করছেন না। তবে সড়কে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা ঝুঁকিপূর্ণতো বটেই, বেআইনিও ।   
 

আরও পড়ুন

×