ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বিদ্যুতের সমস্যায় পুড়ছে ডায়ালাইসিস মেশিন

বিদ্যুতের সমস্যায় পুড়ছে  ডায়ালাইসিস মেশিন

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

স্বপন চৌধুরী, রংপুর

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৩ | ২২:৩৫

ঘড়ির কাঁটায় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা। রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের ডায়ালাইসিস বিভাগের সামনের বারান্দায় চিন্তামগ্ন অবস্থায় বসে আছেন কয়েকজন রোগী। অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে আছে ইউনিটের একাংশ। বিছানাগুলো পড়ে আছে খালি। বিদ্যুৎ সমস্যায় পুড়ে গেছে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিনের মূল্যবান যন্ত্রাংশ। ফলে এই ইউনিটে জট রোগীদের। এ পরস্থিতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা সমস্যায় মেশিন সচলে অপারগতার কথা জানিয়েছে রমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে নামমাত্র অর্থে সরকারের এ গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অসহায় রোগীরা।
হাসপাতাল পরিচালক ডা. ইউনুস আলী জানান, গত শনিবার হঠাৎ বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে পুড়ে যায় সাতটি ডায়ালাইসিস মেশিন ও আটটি এয়ারকন্ডিশনার। এতে বন্ধ হয়ে যায় রোগীদের ডায়ালাইসিস। জরুরি ভিত্তিতে মেশিনগুলো মেরামতের জন্য তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন। বিষয়টি তিনি স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগকেও অবগত করেছেন।

কিডনি রোগে আক্রান্ত নীলফামারীর রানা মাহমুদ তাঁর মাকে নিয়ে সোমবার ডায়ালাইসিসের জন্য সকাল থেকে হাসপাতালে অপেক্ষা করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত চিকিৎসাই নিতে পারেননি তিনি। রানা মাহমুদ জানান, সাড়ে তিন বছর ধরে ডায়ালাইসিস করে তাঁর মাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। বেসরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করানো সাধ্যের বাইরে। 
দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে আসা জহুরুল ইসলাম জানান, আড়াই বছর ধরে তাঁর স্ত্রী কিডনি রোগে ভূগছেন। তাঁকে নিয়ে সকালে এসেছেন হাসপাতালে। কিন্তু ডায়ালাইসিস না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, অস্থিরতার বাজারে ডায়ালাইসিস করাতে এ হাসপাতালের ৪০০ টাকা জোগাড় করাই কঠিন। এ পরিস্থিতিতে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাবেন কীভাবে? এভাবে চললে বিনা চিকিৎসায় তাঁর স্ত্রী মারা যাবে। 

হাসপাতালের ডায়ালাইসিস বিভাগের ইনচার্জ সাজেদা খাতুন জানান, কয়েক ধাপে এ বিভাগে ৩৯টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হলেও বিদ্যুৎ সমস্যায় আগেই নষ্ট হয়েছে ২০টি। ১৯টি সচল থাকলেও সেগুলো চলছিল জোড়াতালি দিয়ে। তার মধ্য থেকে সাতটি নষ্ট হয়েছে গত শনিবার। সব মিলিয়ে ২৭টি ডায়ালাইসিস মেশিনই এখন নষ্ট। গড়ে প্রতিদিন ৭০ জন রোগী আসেন ডায়ালাইসিস করতে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সামান্য সমস্যাগুলো হচ্ছে প্রকট। ডায়ালাইসিস করতে না পারায় রোগীর স্বজনদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। 
হাসপাতালের ন্যাফ্রোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এবিএম মোবাশ্বের আলম জানান, চিকিৎসাসেবায় তাদের আন্তরিকতায় ঘাটতি নেই। নষ্ট যন্ত্রপাতির কারণে এ ইউনিটের চিকিৎসকসহ কর্মকার্তাদের দোষী হতে হচ্ছে। 

দফায় দফায় শর্টসার্কিটের কারণ জানতে চাইলে রংপুর গণপূর্ত অধিদপ্তরের যান্ত্রিক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাজিয়া সুলতানা বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, তাঁর বদলি হয়েছে অন্যত্র। শর্টসার্কিটের খবরে তিনি পরির্দশনে এসেছেন। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব মূল্যবান যন্ত্রপাতির পরিচর্যার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে বহুবার চিঠি চালাচালি করেও লাভ হয়নি। সমাজের বিত্তবান ও দরদি চিকিৎসকদের সহযোগিতায় বিভাগটি টিকে আছে। তা না হলে নাম সর্বস্ব থাকতো হাসপাতালের ডায়ালাইসিস বিভাগ। চলতি বছরের ১১ মাসে রংপুর বিভাগের ১৪ হাজার মানুষ এখানে ডায়ালাইসিস করেছেন।

আরও পড়ুন

×