ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে সব

দৃষ্টিহীন ছয় শিক্ষার্থীর এইচএসসি জয়

ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে সব

.

 শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৩ | ২৩:০৭ | আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০২৩ | ২৩:২৪

ছয়জনের কারও চোখে আলো নেই। তবে আছে প্রবল ইচ্ছাশক্তি। সেই শক্তি কাজে লাগিয়ে শত বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই ছয় শিক্ষার্থী।

তারা হলেন মরিয়ম আক্তার (জিপিএ ৪.৮৩), খাদিজা আক্তার (জিপিএ ৪.৫৮), রথিন ভৌমিক (জিপিএ ৪.৫৮), নুরুল আলম (জিপিএ ৪), মোহাম্মদ মিলন (জিপিএ ৪) ও সাইফুল ইসলাম (জিপিএ ৪)। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন তারা। চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নিলেও সবাই নগরের মুরাদপুর সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। 

তাদের এত দূর আসার পথ মসৃণ ছিল না। আলোহীন চোখের পাশাপাশি দারিদ্র্য ছিল নিত্যসঙ্গী। শারীরিক সীমাবদ্ধতার সঙ্গে নানা সংকট ও প্রতিকূলতা পদে পদে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এসবের কিছুই তারা পাত্তা দেননি। এসএসসির মতো এইচএসসি পরীক্ষাতেও ভালো ফল করেছেন। উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে তাদের কেউ হতে চান শিক্ষক, কেউ হতে চান উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা।

মরিয়ম এইচএসসিতে ভালো ফল করায় পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের পূর্ব সানাই এলাকায়। মেয়ের সাফল্যে খুশি সবজি বিক্রেতা বাবা আবুল কালাম ও গৃহিণী মা রুবি বেগম। চট্টগ্রাম নগরের হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন মরিয়ম। 

তিনি বলেন, ‘চোখে দেখতে না পারায় পাঠ্যবইয়ের অনেক কিছু বুঝতে কষ্ট হয়। আমার একটাই লক্ষ্য ছিল পরীক্ষায় ভালো ফল করা।’

চট্টগ্রাম নগরের কুলগাঁও সিটি করপোরেশন কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন খাদিজা। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা উপজেলায়। মরিয়মের মতো অভাব তাঁরও নিত্যসঙ্গী। কৃষক বাবা ইমাম হোসেনের সামান্য আয়ে চলে সংসার। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মেয়েকে প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী কিনে দিতেও তাঁকে হিমশিম খেতে হয়। 

ইমাম হোসেন বলেন, ‘এত কিছুর পরও খাদিজা কখনও পিছু হটেনি। পড়ালেখার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ।’ খাদিজা বলেন, ‘আমাকে নিয়ে মা-বাবার অনেক স্বপ্ন। তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ 

আরেক কৃষক বাবার মুখ উজ্জ্বল করেছেন সাইফুল ইসলাম। দৃষ্টিহীন ছেলের এমন অর্জনে খুশি বাবা আহমদ শফি ও মা জয়তুন্নেসা। তাদের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া রাজাখালী গ্রামে। সাইফুল বলেন, ‘কৃষিকাজ করে বাবার সামান্য আয় দিয়ে চলে পুরো পরিবার। যে কারণে নিজের অনেক চাহিদাও পূরণ করতে পারিনি। সব কিছুর ঊর্ধ্বে চেয়েছিলাম ভালো ফল করতে। এটা করতে পেরে আমি আনন্দিত। উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চাই।’

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদ বলেন, ‘একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে কত বাধা ডিঙিয়ে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে হয়, তা শুধু সেই জানে। তাদের আগামীর পথ পাড়ি দিতে প্রয়োজন আর্থিক সহযোগিতা।’ 

দৃষ্টিহীন ছয় শিক্ষার্থীর এমন ফলাফলে খুশি চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথও। তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিক জীবনযাপন ও সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও অনেক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

আরও পড়ুন

×