যুক্তরাজ্য থেকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা ৪২ জন যাত্রীকে নগরীর দু'টি হোটেলে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২ টা ২৫ মিনিটে লন্ডন থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটে ওসমানী বিমানবন্দরে আসে। এরপর সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের নগরীর দু'টি হোটেলে বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে যাওয়া হয়।

এতে প্রাথমিকভাবে কিছু যাত্রী প্রতিবাদ জানালেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বুঝিয়ে তাদের নগরীর দরগাগেইট এলাকার হোটেলে নিয়ে যায়। লন্ডন থেকে আসা যাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য সকাল থেকে ওসমানী বিমানবন্দরের বাইরে বিআরটিসির তিনটি বাস প্রস্তুত ছিল। এই গাড়িগুলোতে করে এক শিশুসহ ৪২ জন যাত্রীকে নিরাপত্তা দিয়ে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিন লন্ডন থেকে ৪৮ জন যাত্রী নিয়ে বিমানের ফ্লাইট ওসমানীতে আসার পর সিলেটের ৪২ জন নেমে যান। আর বাকি ৬ জন যাত্রীকে নিয়ে ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় বলে জানিয়েছেন ওসমানী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ। তিনি জানান, ৪২ জন যাত্রী নামার পরপরই তাদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোয়ারেন্টানের জন্য সরাসরি হোটেলে নেওয়া হয়। নগরীর দরগাহ গেইট এলাকার হোটেল স্টার প্যাসিফিক ও হোটেল হলিগেইটে লন্ডন ফেরত যাত্রীদের নিজ খরচে কোয়ারেন্টাইনের জন্য নির্ধারণ করে রাখে জেলা প্রশাসন।

ওসমানী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ জানান, লন্ডন ফেরত যাত্রীরা হোটেলে থেকে ঠিকমতো ১৪ দিনের কোয়ারেন্টান পালন করছেন কি-না, তাও তদারকি করবেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা হাকিম।

যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন নিয়ে শঙ্কার মধ্যে সরকার ১ জানুয়ারি থেকে লন্ডন থেকে আসা সকল যাত্রীর নিজ খরচে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনের সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পর সোমবার প্রথমবারের মত লন্ডন থেকে ওসমানীতে বিমানের ফ্লাইট আসে।

এদিকে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করার পর লন্ডন থেকে দেশে আসা যাত্রীর সংখ্যা কমেছে। গত বছরের শেষ সপ্তাহে লন্ডন থেকে ৬৪১ জন বিমানের ফ্লাইটে দেশে আসেন। এদের মধ্যে গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২ জন, ২৮ ডিসেম্বর ২০২ জন ও ৩১ ডিসেম্বর ২৩৭ যাত্রী দেশে আসেন। এদের সবাইকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।