সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ফেচুয়ালেঞ্জী গ্রামের একই পবিরাবের ৬ জনের দাফন সোমবার দুপুরে সম্পন্ন হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ জনকে একসঙ্গে জানাজার নামাজ শেষে দাফন করা হয়েছে। অপর একজনকে শ্বশুর বাড়ি গৌরীপুরের সিধলা গ্রামে দাফন করা হয়। 

একই পরিবারের ৫ জনের জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাজার হাজার মানুষ।

স্থানীয়রা জানায়, কোনোভাবেই নিহতদের পরিবারের লোকজনের কান্না থামছে না। দুই পুত্র এক কন্যা, নাতীসহ দুই পুত্রবধুকে হারিয়ে নির্বাক মা আয়েশা খাতুন। মুখে কোন কথা নেই। এরই মধ্যে জ্ঞান হারিয়েছেন কয়েক বার। আবার মাকে হারিয়ে সন্তানদের কান্নার আহাজারি থামছে না। মা কাঁদছে সন্তানের জন্য, সন্তান কাঁদছে মায়ের জন্য, ভাই কাঁদছে ভাইয়ের জন্য। ভাতিজা কাঁদছে চাচার জন্য। তাদের সান্তনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না প্রতিবেশী-স্বজনরা। 

প্রতিবেশী আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ফেছুয়ালেঞ্জী গ্রামের মৃত হামেদ আলীর ছোট ছেলে মাওলানা ফারুক আহমেদ ৫ বছর আগে বিয়ে করেন পার্শ্ববর্তী মধুনাল গ্রামের আ. রহিমের মেয়ে মাসুমা আক্তারকে। বিয়ের পর গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের সংসার জীবনে প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। অনেক দিন পর সন্তান হওয়ার তাদের পরিবারে আনন্দের বন্যা বইতে থাকে। হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়ে গত রোববার একটি সিএনজিচালিতে অটোরিকশা করে স্ত্রীসহ নবজাতককে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সঙ্গে ছিলেন ফারুকের ভাই মো. নিজাম উদ্দিন, বোন তামান্না আক্তার জুলেখা ও ভাবী জ্যোৎস্ন আক্তার। অটোরিকশাটি নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কের তারাকান্দা উপজেলার গাছতলা নামক স্থানে আসলে বিপরীত দিক থেকে আসা বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সিএনজি আরোহী সবাই নিহত হন। এ ঘটনায় চালক ময়মনসিংহের চর লক্ষীপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে রকিবুলেরও মৃত্যু হয়। 

নিহতরা হলেন- নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের ফেছুয়ালেঞ্জি গ্রামের ফারুক মিয়া (২৫), তার স্ত্রী মাসুমা আক্তার (২০), নবজাতক শিশু আব্দুল্লাহ, বড় ভাই নিজাম উদ্দিন (২৭), বড় বোন তামান্না আক্তার জুলেখা (৩২), আরেক বড় ভাই আজিম উদ্দিনের স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম (২৫) ও ময়মনসিংহ সদরের চরলক্ষীপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে সিএনজির চালক রাকিবুল (৩০)।

নিহতদের লাশ শ্যামগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির মাধ্যমে রোববারই পরিবারে লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশে ফারুক মিয়া, মাসুমা আক্তার, নবজাতক শিশু আব্দুল্লাহ, বড় ভাই নিজাম উদ্দিন ও ভাবী জ্যোৎস্না বেগমকে  পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। আর বোন তামান্না আক্তার জুলেখাকে তার শ্বশুরবাড়ি গৌরীপুর উপজেলার সিধলা গ্রামে দাফন করা হয়।

শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নয়ন চন্দ্র দাস জানান, এ ঘটনায় নিহতদের বড় ভাই আজিম উদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। চালক পলাতক রয়েছেন। বাসটি জব্দ করা হলেও কাউকে আটক করা যায়নি।