রাজবাড়ীর পাংশায় জুয়া খেলায় হেরে সর্বস্বান্ত ও দেনায় জর্জরিত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন মিন্টু শেখ নামের এক যুবক। বুধবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মিন্টু শেখ উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নের ভট্টাচার্যপাড়া গ্রামের শাহাদত শেখের ছেলে। দুই মেয়ে সন্তানের জনক মিন্টু শেখ পেশায় ছিলেন একজন ভ্যানচালক ছিলেন।

মৃত মিন্টু শেখের চাচা নকু শেখ জানান, মিন্টু বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। বেশ কিছুদিন আগে তিনি জানতে পারেন মিন্টু জুয়া খেলায় আসক্ত ছিলেন। ১৫/২০ দিন আগে মিন্টু জুয়া খেলায় এক লাখ টাকা হেরে গেলে মিন্টুর সঙ্গী আরেক জুয়াড়ি তাকে ৫১ হাজার টাকা ধার দেয় আরও জুয়া খেলার জন্য। মিন্টু সেই টাকাও হেরে যান। পরে টাকার ফেরত দেওয়ার জন্য জুয়াড়িরা মিন্টুর উপর চাপ সৃষ্টি করেন। কয়েকদিন আগে মারধরও করেন। মিন্টুর চাচা আরও জানান, দেনা থেকে বাঁচতে গত সোমবার তার ভাতিজা বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে রেফার্ড করা হয়। বুধবার সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বাবুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ইমান আলী সরদার খবরের সত্যতা নিশ্চিত জানান, মিন্টু শেখ জুয়া খেলায় সর্বস্বান্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি)শাহাদত হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মৃতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে মিন্টু শেখ আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।