নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলায় দুই মাস ধরে বিদ্যুৎ সংকটে দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় আড়াই হাজার গ্রাহক। যান্ত্রিক ক্রুটির কারণে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও আবাসিক প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান।

স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, ৫০০ কেভির ৪টি জেনারেটর ইঞ্জিন পরপর নষ্ট হয়ে গেছে। সর্বশেষ ১ সপ্তাহ আগে ১ মেগাওয়াটের ইঞ্জিনটিও বিকল হয়ে পড়ে। ফলে সর্বত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। শুধুমাত্র ৫০০ কেভির একটি ইঞ্জিন জেনারেটর দিয়ে উপজেলা পরিষদ এলাকায় নামে মাত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও আবাসিক বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ গ্রাহকের ফ্রিজের সংরক্ষিত মালামাল ও জরুরি ওষুধপত্র নষ্ট হতে চলেছে। কম্পিউটার ফটোস্ট্যাটসহ বিভিন্ন ব্যবিসায়ীক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে গ্রাহকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

হাতিয়া চাইনিজ এন্ড ফাষ্টফুড রেস্টুরেন্টের মালিক জানান, কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে তাদের ফ্রিজে থাকা মাছ, মাংস, মসলাসহ প্রায় ৩০ হাজার টাকার জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। একই দুর্ভোগের কথা জানালেন মোহাম্মদিয়া হোটেলের মালিক।

হাতিয়ায় বড় ফলের আড়তদার জাকের হেসেন ও আকরাম হোসেন জানান, ঢাকা থেকে ফল এনে এখানে ফ্যানের মাধ্যমে কুলিং সিষ্টেম করতে হয়। গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের প্রায় ৫ লাখ টাকার উপরে ফল পচে গেছে।

হাতিয়া পৌরসভার বিদ্যুৎ গ্রাহক ওছখালী বাজারের ব্যবসায়ী সাহেদ উদ্দিন ও রিয়াদ উদ্দিন জানান, ২ মাস ধরে বিদ্যুতের সমস্যা। গড়ে প্রতিদিন ১ ঘণ্টারও কম সময় বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। একবার বিদ্যুৎ এসে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি থাকে না। এতে তারা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।