ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছয় পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ৫টি বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েক রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রাম্য দলাদলি ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার নিয়ে কুমারপট্টি গ্রামের এসকেন মাতব্বরের সঙ্গে হারুন মাতব্বরের দীর্ঘদিন ধরে রিবোধ চলে আসছিল। এই দুই মাতব্বর গ্রাম্য দু’টি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে নিজেদের দলের শক্তির জানান দিতে উভয় পক্ষের শতশত লোক দেশীয় অস্ত্র, ঢাল, কাতরা, ভেলা, শরকি, টেটা ও ইটের টুকরা নিয়ে স্থানীয় মাঠের মধ্যে জড়ো হয়। একপর্যায় তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ। এতে আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে অংশ নেয়। সংঘর্ষের সময় ৫টি বসতঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সালথা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে সংঘর্ষকারীদের ইটের আঘাতে ও হামলায় ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়। এ ছাড়া সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

সালথা থানার ওসি মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ সমকালকে বলেন, খবর পেয়ে আমিসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৮ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ও ২টি সাউন্ড গ্রেনেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এ সময় ৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। তাদের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।