সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার সুনই জলমহালের দখল নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় এক জেলে নিহত এবং উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। জলমহালে থাকা একপক্ষের স্থাপনা পুড়িয়ে দিয়েছে অপর পক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় জলমহাল পাড়ের আশপাশের গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, দ্বন্দ্বে জড়িত দুই পক্ষের মধ্যে একপক্ষে (হামলাকারী) স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ভাই ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রুখন ছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, ধর্মপাশার বৃহৎ জলমহাল সুনই নিয়ে দুই মৎস্যজীবী সমিতির দ্বন্দ্ব চলছে অনেক দিন ধরে। জলমহালের খাজনা পরিশোধ করে দুই পক্ষই মহালের মালিকানা দাবি করে আসছে। একপক্ষ সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বিরুদ্ধে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেছিল। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮ টায় জলমহালের পাড়ে থাকা একপক্ষের মাছের খলায় আরেকপক্ষ আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় প্রতিপক্ষের লোকজন শ্যামাচরণ বর্মণ নামের ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধ জেলেকে গলা কেটে হত্যা করে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, জলমহালটির ইজারা নিয়ে স্থানীয় দু’টি মৎস্যজীবী সমিতির দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। দুই মৎস্যজীবী সমিতির নেতা চন্দন বর্মণ এবং সুবীর বর্মণ মহালের খাজনা জমা দিয়ে রশিদ দেখিয়ে জলমহালের দখল নিতে চাইলে জেলা প্রশাসন কাউকেই দখল বুঝিয়ে দেয়নি। কিন্তু দুই পক্ষই ওখানে মাছ ধরার জন্য স্থাপনা (খলা) নির্মাণ করেছে। চন্দন বর্মণের পক্ষ উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ পায়। জলমহালে অন্য পক্ষের লোকজনও দখলে ছিল। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওখানকার স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিলেও তিনি নির্দেশ প্রতিপালন করেননি। বিষয়টি বারবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এই অবস্থায় সুবীর বর্মণের লোকজন অন্যপক্ষের স্থাপনায় হামলা করেছে। এসময় চন্দন বর্মণের বাবা শ্যামাচরণ বর্মণ খুন হয়েছেন। 

তিনি বলেন, হামলাকারীদের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রুখন ছিলেন বলে জানা গেছে।