রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার নির্বাচনী প্রচারের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দুই সংবাদকর্মী। 

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার শাহাপুর পেয়াদাপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মুক্তার আলীর কর্মী-সমর্থকরা এ হামলা চালায়। হামলায় আহত হয়েছেন মাছরাঙা টেলিভিশনের রাজশাহীর ক্যামেরাপারসন মাহফুজুর রহমান রুবেল এবং দীপ্ত টিভির ক্যামেরাপারসন রফিকুল ইসলাম।

সংবাদকর্মী মাহফুজুর রহমান রুবেল বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আকস্মিকভাবে তাদের ওপর হামলা চালায় মুক্তার আলীর সমর্থকরা। হামলাকারীরা আমার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায়। হামলাকারীরা আমার মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলেছে। তারা ক্যামেরা ভাঙারও চেষ্টা করে। এ সময় দীপ্ত টিভির ক্যামেরাপারসন রফিকুল ইসলামকেও মারধর করা হয়।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শহিদুজ্জামান শহিদের পক্ষে প্রচার চালানোর কারণে রাজশাহী জেলা যুব মহিলা লীগের এক নারীনেত্রীকেও লাঞ্ছিত করে হামলাকারীরা। হামলার শিকার দুই সংবাদকর্মী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

রুবেল জানান, বাঘায় যুব মহিলা লীগের নেত্রীরা নৌকার প্রচার চালাচ্ছিলেন। ওই সময় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা নৌকার লিফলেট নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছিঁড়ে ফেলছিল। এই দৃশ্য তারা ক্যামেরায় ধারণ করছিলেন। তখনই বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা তাদের ওপর আক্রমণ করে। এক সমর্থক তার গলা টিপে ধরে বলে, 'সাংবাদিকের বাচ্চা তোকে আজ মেরেই ফেলব।' এরপর স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় খবর দেওয়া হলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আসেনি। পরে রুবেল থানায় অভিযোগ দেন।

এ ব্যাপারে বাঘা থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, 'আমরা ঘটনাটি দেরিতে জানতে পেরেছি। পরে হামলার শিকার সংবাদকর্মীকে ফোন করেছিলাম। তিনি থানায় এসে জানিয়েছেন, বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী মুক্তার সাহেবের লোকজন হামলা করেছে। লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি।'

আড়ানী পৌরসভা নির্বাচনে এবার আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী শহিদুজ্জামান শহিদ। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান মেয়র মুক্তার আলী।