'খ্যাতায় বাবা জার মানে না। ঠান্ডায় কাহিল অইয়া যাই। পোলাডায় যা কামাই করে তাই দিয়া চাল-ডাল কিনা খাই। জারের নিগা যে কিছু কিনুম তার তো জো নাই।' কম্বল নিতে এসে এভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের পৌলী পশ্চিমপাড়ার অশীতিপর নয়ন ভানু।

সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ও আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের পৌলী, সোনালিয়া, বাংড়া, নথখোলা, থুপিয়া, পাটখাগুড়ী গ্রামের ৫০০ পরিবারের মধ্যে একটি করে কম্বল বিতরণ করা হয়।

কম্বল পেয়ে সোনালিয়া গ্রামের সত্তর বছরের আউশি বেগম বলেন, 'এই ঠান্ডায় আমাদের কেউ একটা কাপড়ও দেয় নাই। ঠান্ডায় খুব কষ্ট করতাছি। আমরা গরিব মানুষ, ট্যাহা পয়সা নাই। ভিক্ষা করে জীবন কাটাই। কম্বল পেয়ে আমি খুব খুশি হইছি। ঠান্ডায় বাঁচতে পারুম। ঠান্ডায় আর কাহিল করতে পারব না।'

দুই সন্তান নিয়ে শীতবস্ত্র নিতে এসেছেন রোকেয়া খানম। অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই নারী। গরম কাপড় পেয়ে তার যেন আনন্দ আর ধরে না। খুশি হয়ে বলেন, সন্তানদের নিয়ে কয়েকদিন ধরে শীতে খুব কষ্ট করছি। ঠান্ডার কোনো কাপড়চোপড় নাই। কোনো মতে এ্যাহন ঠান্ডা থেইকা বাঁচুম। শুধু নয়ন ভানু, আউশি বেগম নন শীতবস্ত্র পেয়ে আলাউদ্দিন আলী, বানিজ হোসেন, লতিফা বেওয়া, বাছেদ ব্যাপারী, মাদ্রাসাছাত্র জুয়েল, স্বপন, নাজমুল তারা সবাই খুশি।

পৌলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম প্রধান অতিথি থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারেক মাহমুদ সজিব, সমকালের সহকারী সম্পাদক ও সুহৃদ সমাবেশের বিভাগীয় সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম আবেদ, সমাজসেবক সাদেক আলী খান, আজম খান, ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম লিটন, কাশিল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাকির হোসেন মিন্টু, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার রাশিদুল হাসান। সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ও আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে সারাদেশে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শীতার্তের জন্য ভালোবাসা।

প্রধান অতিথি কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, সুহৃদ সমাবেশ ও আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিতরণ করা কম্বল এসব অসহায় মানুষকে কিছুটা হলেও শীত নিবারণে সহায়তা করবে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষ এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও এভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

সমাজসেবক সাদেক আলী খান এমন উদ্যোগের জন্য সুহৃদ সমাবেশ ও আল-খায়ের ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ এলাকার মানুষ খুব গরিব। শীত নিবারণের জন্য এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে তাদের কোনো সাহায্য করা হয়নি।