করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগে কাজ শুরু করে দিয়েছেন বরিশাল বিভাগের মাঠ কর্মকর্তারা। প্রথম পর্যায়ে আট লাখ ৬৬ হাজার ৯৯৪ জনকে টিকা প্রয়োগের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। বিভাগের প্রতিটি জেলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যারা টিকা পাচ্ছেন তাদের চূড়ান্ত তালিকা সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানা গেছে, প্রথম ধাপে বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরিশালে দুই লাখ ৪২ হাজার ৪২, ভোলায় এক লাখ ৮৫ হাজার ২৭, ঝালকাঠিতে ৭১ হাজার ৯০, পটুয়াখালীতে এক লাখ ৫৯ হাজার, পিরোজপুরে এক লাখ ১৫ হাজার ৯২৯ এবং বরগুনায় ৯২ হাজার ৯৭০ জন টিকার আওতায় আসবেন। যারা টিকার জন্য তালিকাভুক্ত হবেন তাদের তথ্য একটি অ্যাপসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। ভ্যাকসিন প্রয়োগে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের মাধ্যমে হাসপাতাল থেকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।

বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন জানান, তার কার্যালয়ের নিচতলার একটি কক্ষে ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় করোনা ভ্যাকসিন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে ভ্যাকসিন রাখার জন্য বসানো হয়েছে স্টিলের সেলফ। একই কক্ষে আইসল্যান্ড রেফ্রিজারেটর (আইএলআর) সিস্টেমেও ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করা যাবে। কক্ষে ভ্যাকসিন সংরক্ষণের ধারণ ক্ষমতা এক লাখ থেকে সোয়া চার লাখ পর্যন্ত এবং আইএলআরে ধারণ ক্ষমতা সাত হাজার ১০০ ভায়েল। প্রতিটি ভায়েলে ১০টি করে ডোজ থাকবে।

মনোয়ার হোসেন আরও জানান, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেপেও করোনার ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করা যাবে। সেখানে আগে থেকেই আইএলআরের মাধ্যমে ওই তাপমাত্রায় ভ্যাকসিন সংরক্ষণ হতো।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল সাংবাদিকদের জানান, বিভাগের সব জেলা-উপজেলায় একই পদ্ধতিতে করোনার ভ্যাকসিন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের টিকা প্রয়োগের অভিজ্ঞতা আছে। তারপরও বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণের জন্য কর্মীদের ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

মন্তব্য করুন