চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে প্রধান দুই মেয়র প্রার্থী গতকাল শনিবারও ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন নির্বাচনী প্রচার ও গণসংযোগে। নগরের দারুল ফজল মার্কেটের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, 'নৌকায় ভোট দিয়ে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া সম্মান সমুন্নত রাখতে হবে। স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নৌকার বিজয়ে ভূমিকা রাখতে হবে।' বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

অন্যদিকে নাসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, 'ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে। চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে ছাত্রদলকে আরও বেশি কৌশলী ও সক্রিয় হয়ে কাজ করার বিকল্প নেই। মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ছাত্রদলকে ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হবে।' প্রধান দুই দলের মেয়র প্রার্থী গতকালও নগরীর বিভিন্ন স্থানে প্রচার চালান, নানা প্রতিশ্রতি দিয়ে ভোট চান। নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবেই ওই দুই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় রেজাউল করিম চৌধুরী আরও বলেন, চট্টগ্রামের গণমানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমেছি। স্বাধীনতার শক্তি আমার এই ভোটযুদ্ধের মূল প্রেরণা ও শক্তি।

সভায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. সরওয়ার আলম চৌধুরী বক্তব্য দেন। বিকেলে নগরের পাহাড়তলী, লালখান বাজার ও বাগমনিরাম ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন রেজাউল করিম চৌধুরী। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। গণসংযোগে রেজাউল করিম চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হলে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকাদের নিরাপদ জায়গায় পুনর্বাসন করাসহ নানা প্রতিশ্রুতি দেন ভোটারদের।

এদিকে ছাত্রদলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চসিক নির্বাচনের পরিবেশ এখনও সবার জন্য সমান হয়নি। ভয়ভীতি দেখিয়ে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কমানোর পাঁয়তারা করছে। ২৭ জানুয়ারি কেন্দ্র দখল ও ভোট কারচুপি ঠেকিয়ে চসিক নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্য ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হবে।

এর আগে তিনি মহানগর ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে নগরীর কাজীর দেউড়ি মোড়, ভিআইপি টাওয়ার, কাজীর দেউড়ি বাজার, নূর আহমদ সড়কে গণসংযোগ করেন। পরে তিনি মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের নিয়ে নগরীর ওয়াসা মোড়, জমিয়তুল ফালাহ, দামপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সাইফুল আলম, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ চৌধুরী লিমন, সালাউদ্দিন কাদের আসাদ, মো. আরিফুর রহমান, জহির উদ্দীন বাবর, আরিফুর রহমান মিঠুসহ নেতাকর্মীর উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শাহাদাতের গাড়িতে হামলার অভিযোগ: নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার পথে গাড়িতে হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হালিশহর থানার ঈদগাহ নয়াবাজার এলাকার রূপসা বেকারির সামনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুস সবুর লিটনের অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তার।

এ বিষয়ে নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) ফারুক উল হক বলেন, গণসংযোগের সময় ডা. শাহাদাত হোসেনকে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। হামলা বা গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

আওয়ামী লীগের দু'পক্ষে সংঘর্ষ, আহত ৬: গতকাল বিকেলে নগরের টাইগারপাস বটতল এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল হাসনাত মো. বেলাল ও লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুমের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন। তারা হলেন মাঈনুদ্দিন হানিফ, নওশাদ রহমান, মাহবুবুর রহমান, মো. আসিফ, মো. জুয়েল ও মো. ইমন। তাদের মধ্যে মাঈনুদ্দিন হানিফ নগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলার আসামি। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী টাইগারপাস এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর গণসংযোগের কথা ছিল। এ জন্য আগে থেকেই দুই পক্ষের লোকজন এসে জড়ো হন। আওয়ামী লীগ নেতারা ঘটনাস্থলে আসার আগেই তারা সংঘর্ষে জড়ান।