বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ পৌর নির্বাচনে এক কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থক আফসার সিকদারকে (৫০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

রোববার দুপুরে আফসার সিকদারের সঙ্গে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী নিপ্পন তালুকদারের মারামারি হয়। এতে আহত হন তিনি। পরে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

আফসার সিকদারের মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছালে সোমবার দুপুরে  মেহেন্দিগঞ্জ পৌর শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল হক জমাদ্দারের সমর্থক ছিলেন আফসার সিকদার। তিনি পেশায় মোটরসাইকেল মেকানিক ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, রোববার দুপুরে পাতারহাট রসিক চন্দ্র (আরসি) কলেজের সামনে কাউন্সিলর প্রার্থী নিপ্পন তালুকদার ও তার কয়েকজন সমর্থক আফসার সিকদারকে মারধর করেন। তাকে আহতবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল হক জমাদ্দার বলেন, তিনি টানা ২৭ বছর যাবত ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিপ্পন তালুকদার। নুরুল হক জমাদ্দারের অভিযোগ, নিপ্পন মাদকাসক্ত। রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে নিপ্পন ও তার কয়েক সহযোগী আরসি কলেজের সামনে এসে পাশ্ববর্তী সেলুনে একজনকে মারধর করছিল।  এসময় আফসার সিকদার মোটরসাইকেলে সেখানে আসেন। তিনি দাঁড়ানো মাত্র নিপ্পনের সহযোগী রাকিব তালুকদার লাঠি দিয়ে আফসারের মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।

তবে মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, তারা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন নিপ্পনের সঙ্গে আফসার সিকদারের হাতাহাতি হয়। এসময় আফসার উত্তেজিত হয়ে ইট আনার জন্য সড়ক পাড় হওয়ার সময় একটি ইজিবাইকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সড়কে লুটিয়ে পড়েন। এতেই তার মৃত্যু হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ঘটনাটি আরও গভীরে তারা তদন্ত করছেন। সোমবার দুপুর পর্যন্ত কোনও পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি।

নিপ্পন তালুকদারের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। উল্লেখ্য, আগামী ৩০ জানুয়ারী মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
 


মন্তব্য করুন