টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নুরুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে মেয়ের শ্বশুরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে উপজেলার লক্ষিন্দর এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নুরুল ইসলাম ছনখোলা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- নিহতের মেয়ের শ্বশুর জামাল হেসেন (৪৫), ননদের স্বামী ফজর আলী  এবং অটোচালক শাহ আলম (২২)।  

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, গত শনিবার থেকে নুরুল ইসলাম নিখোঁজ ছিলেন। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করে কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে রোববার একটি সাধারণ ডাইরি করেন তার ছেলে আনিছুর রহমান। এরপরই পুলিশ উদ্ধার অভিযানে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় নূরুল ইসলামের মেয়ের ননদের জামাই ফজর আলীকে আটক করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার সহযোগিতায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে নিহতের মেয়ের শ্বশুর জামাল হোসেন ও অটোচালক শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরে উপজেলার লক্ষিন্দর গ্রামের প্রাইমারী স্কুলের পাশের জঙ্গল থেকে নুরুল ইসলামর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আনিছুর রহমান বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, শনিবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে উপজেলার দেওয়াজানা বাজার থেকে জোর করে নুরুল ইসলামকে অটোরিকশায় তোলেন তারা। পরে অটোর ভেতরেই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর নুরুল ইসলামের মরদেহ লক্ষিন্দর প্রাইমারী স্কুলের পাশের জঙ্গল লাশ ফেলে চলে আসেন।

লক্ষিন্দর ইউনিয়নের স্থানীয় সদস্য বাহাদুর জানান, জামাল হোসেন দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি দেশে এসেছেন। তিনি বলেন, নিহতের প্রতিবেশীর কাছ থেকে জানতে পেরেছি নুরুল ইসলামের স্ত্রীর সঙ্গে জামাল হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক আছে।

ঘাটাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.ছাইফুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন