তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে চট্টগ্রাম আদালতে দুই আইনজীবীকে মারধর ও লাঞ্ছিনার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে যুবলীগ কর্মী জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু ওরফে মারুফ চৌধুরী হত্যা মামলায় আসামিদের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে আইনজীবী ও হাজতখানা পুলিশের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা দুই আইনজীবীকে মারধর করেন। 

এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। তারা হলেন- কনস্টেবল রাজন, হাসনাত, আসাদ ও শাহজাহান।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মাদুল্লাহ মোজাহের বলেন, একটি হত্যা মামলায় পাঁচ আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। তাদের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের হাজতখানা থেকে বের করে সাংবাদিকদের ছবি তোলার সুযোগ করে দিয়ে ফের হাজতে ঢোকানো হয়। আমি আসামির আইনজীবী হিসেবে এর প্রতিবাদ করি। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পুলিশ অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হাসান আনু ও সারাফাত উদ্দিনকে লাঞ্ছিত করে।

মহানগর কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আবুল বাশার বলেন, হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো পাঁচ আসামিকে হাজতখানা থেকে প্রিজন ভ্যানে তুলতে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা ছবি তুলছিলেন। তখন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বাধা দিলে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় আসামিদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের দ্রুত হাজতখানায় ফিরিয়ে আনা হয়। পুলিশ সাংবাদিকদের সরিয়ে দেওয়ার পর আইনজীবীরা আদালতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যের ওপর চড়াও হন। কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে লাঞ্ছিতও করেন আইনজীবীরা।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আইনজীবীদের ওপর হামলায় জড়িত চার পুলিশ সদস্যকে আদালত থেকে ক্লোজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আরও যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য করুন