আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর জন্য নগরবাসীর কাছে ভোট চাইলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। তিনি নগর আওয়ামী লীগেরও সহসভাপতি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নগরবাসীকে ভোট দিতে এ আহ্বান জানান তিনি। তবে এতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান সমকালকে বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের মেয়র কারও পক্ষে ভোট চাইতে পারেন না। প্রশাসকের বিষয়ে বিধিতে কি বলা আছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। যদি বিধি অনুযায়ী তিনি ভোট চাইতে না পারেন তাহলে তাকে এ বিষয়ে নিষেধ করা হবে।

চট্টগ্রামকে ঘিরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে মতবিনিময় সভায় খোরশেদ আলম সুজন বলেন, যেহেতু আমি ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছি না, তাই প্রিয় চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আমার কিছু বলার আছে। সেটা হচ্ছে এ নির্বাচনে সবাই অংশ নিচ্ছে। চট্টগ্রাম একটা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের অপেক্ষায় আছে। আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে চট্টগ্রামই হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রেষ্ঠতম যোগাযোগ কেন্দ্র। সুতরাং এই নির্বাচনে বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শেখ হাসিনা যাকে প্রার্থী করেছেন চট্টগ্রামের স্বার্থে তাকেই চিন্তায় আনতে হবে। এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জিতলে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে পারবে না। বিএনপির যেটা সুবিধা হচ্ছে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা একটা সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছে; যেটা অনেকদিন তারা পারেনি।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘাত-সংঘর্ষে না জড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, টুকটাক যা হয়েছে হয়েছে; আর যেন কোথাও সংঘাত-সংঘর্ষের খবর শুনতে না পাই। ভালোবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করুন, শক্তি দিয়ে নয়। তিনি বলেন, নির্বাচন এলে একটা উত্তাপ থাকে। উত্তাপটা নির্বাচনের প্রাণ। তবে এই উত্তাপটা যেন আত্মঘাতী না হয়, এটি যেন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্থ না করে। এখন ইচ্ছে করলে মিছিল-মিটিং ছাড়াও প্রচার চালানো যায়। এখন মিডিয়া ও ফেসবুকের যুগ, বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষকে বার্তা পাঠাতে পারেন প্রার্থীরা।

আগামীর নির্বাচিত মেয়রের প্রতি প্রত্যাশা জানিয়ে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, যিনি নির্বাচিত হয়ে আসবেন তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলেও নগরপিতা। তিনি যেন সব নগরবাসীর অভিভাবকের দায়িত্ব নেন। জনগণের অর্থকে যেন নিজের অর্থ মনে না করেন, জনগণের সম্পদকে যেন নিজের সম্পত্তি মনে না করেন। চট্টগ্রামের প্রতি ইঞ্চি মাটি মনে করবেন অত্যন্ত দামি। প্রতি ইঞ্চি মাটিকে গড়ে তুলতে হবে। যারা জিতবেন তারা ভবিষ্যতে সকল দলকে নিয়ে, সকল চিন্তাশীল মানুষকে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরকে গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন।

করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়লে স্থগিত হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্বনির্ধারিত নির্বাচন। মেয়াদ শেষ হয় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনেরও। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, ১৮০ দিনের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে খোরশেদ আলম সুজন গত ৬ আগস্ট দায়িত্ব নেন।