আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পরিবার নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় রোববার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল ডেকেছিল স্থানীয় নাগরিক সমাজ। পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি বাতিল ও নোয়াখালী-৪ আসনের (সদর ও সুবর্ণচর) সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীকে বহিস্কারের দাবিতে এ হরতালের ডাক দেন সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

শনিবার সকালে বসুরহাট বঙ্গবন্ধু চত্বর থেকে কাদের মির্জা হরতালের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে আগের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান, সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলী, জহিরুল ইসলাম তানভীর প্রমুখ। পরে সন্ধ্যায় হরতাল প্রত্যাহার করা হয়।

সমকালকে কাদের মির্জা বলেন, আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদের কোম্পানীগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিব বাহিনীর সহকারী অধিনায়ক ছিলেন। '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে যোগ দিয়েছেন। স্বাধীনতার পরে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক হন। '৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দুই গ্রুপকে একত্রিত করেছেন। ৩০ মাস জেলে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর আরও একবার ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের দু'বারের সাধারণ সম্পাদক। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। রাজনীতি করতে গিয়ে ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলায় তার শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল। আর রোববার নোয়াখালীর তথাকথিত আওয়ামী লীগ নেতা একরাম চৌধুরী আমাদের রাজাকার পরিবার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

এদিকে আবদুল কাদের মির্জার এ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি কমান্ডার খিজির হায়াত খান বলেন, অবিলম্বে একরাম চৌধুরীকে দল থেকে বহিস্কার করতে হবে এবং তার বিচার করতে হবে।