'নগর পিতা নয়, নগর সেবক হতে চাই'- স্লোগানে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। ইশতেহারকে নয়টি ভাগে ভাগ করে ৭৫টি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন তিনি। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। চট্টগ্রামকে নান্দনিক, পরিচ্ছন্ন, শিক্ষাবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। ইশতেহারে গুরুত্ব দিয়েছেন গৃহকর ও আবাসন, পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম, নিরাপদ চট্টগ্রাম, সাম্য-সম্প্রীতির চট্টগ্রাম, নান্দনিক পর্যটন নগরী এবং তথ্যপ্রযুক্তি ইস্যুকে। ডা. শাহাদাত হোসেন নিজেই নির্বাচনী ইশতেহার পড়ে শোনান। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বক্তব্যের  শুরুতে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, 'মানবসেবার অন্যতম মাধ্যম চিকিৎসা সেবাকে নিয়েছি পেশা হিসেবে। রাজনীতিতে নিজেকে নেতা নয়, কর্মী মনে করি আমি। নগরবাসীর নাগরিক অধিকার আমাদের সংবিধান নির্দিষ্ট করেছে। কিন্তু সে অধিকার দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। সংবিধানের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সিটি করপোরেশন পারে বিদ্যমান উন্নয়ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নগরবাসীর দোরগোড়ায় উন্নয়ন পৌঁছে দিতে। মেয়র নির্বাচিত হলে জনগণসহ সংশ্নিষ্ট সব সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেব।'

গতকাল শনিবার ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়কারী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'ভোট কেড়ে নিয়ে অবৈধ কোনো মেয়র নগরবাসী চায় না। অন্তত নিজের ভোট নিজে দিয়ে চট্টগ্রামবাসী তাদের মেয়র নির্বাচিত করতে পারে, সে ব্যাপারে আমরা সহযোগিতা চাই।' এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এএম নাজিম উদ্দিন, সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম একটি পাহাড়, সাগর ও নদী পরিবেষ্টিত শহর। অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি মাটি গিয়ে পড়ে খাল ও নালায়। এতে খাল-নালা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ১৯৯১-১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় ইউএনডিপির সহায়তায় নালা-নর্দমা সংস্কারের যে মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার বন্ধ করে দেয়। সেই প্রকল্প পুনঃবাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন ডা, শাহাদাত। কর্ণফুলী নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে আধুনিক ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যকর চট্টগ্রাম: নগরের জনসংখ্যা গত ৫০ বছরে প্রায় ২০ গুণ বাড়লেও নতুন কোনো হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ঢাকায় ১০টি বিশেষায়িত হাসপাতাল থাকলেও চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত নেই। আধুনিক কভিড হাসপাতাল নির্মাণসহ স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পানি, শিশু সুরক্ষা ও স্যানিটেশনের মতো মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী।

শিক্ষাবান্ধব চট্টগ্রাম: শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি অটোমেশনের আওতায় এনে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার মানোন্নয়ন, স্কুলে প্রবেশ-প্রস্থান, ক্লাস কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও পরীক্ষার ফলাফল- সবকিছু যাতে অভিভাবকরা ঘরে বসে তাদের মোবাইলের মাধ্যমে মনিটর করতে পারেন, তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ত্রৈমাসিক অভিভাবক সমাবেশ করে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার মানোন্নয়নে সচেতনতা সৃষ্টি করা হবে।

গৃহকর ও আবাসন: সেবা প্রদানে কর অত্যাবশ্যকীয় সহায়ক শক্তি। নির্বাচিত হলে জনগণের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান গৃহকরের প্রয়োজনীয় বিন্যাস ও সরলীকরণ করাসহ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হকার, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ, ভবঘুরে ও ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করা হবে।

পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম: পরিবেশবান্ধব নান্দনিক পর্যটন নগরী গড়তে পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। মেয়র নির্বাচিত হলে চসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগকে ঢেলে সাজিয়ে আধুনিকায়ন করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আদলে বর্জ্যকে রিসাইক্লিং করে কৃষিকাজে ব্যবহারের উপযোগী করা হবে।

অন্যান্য: মাদক ও সন্ত্রাস দমনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ডা. শাহাদাত। এছাড়া সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় সহনশীলতা বজায় রাখতে নানা কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলেন। পর্যটন শিল্পের বিকাশে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলাসহ চট্টগ্রামকে আইটি উপশহর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।