প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচন উপলক্ষে এরই মধ্যে কয়েকজন নিরীহ মানুষের প্রাণ ঝরেছে। মনে রাখতে হবে নির্বাচনের চেয়ে একটি জীবন অনেক মূল্যবান। নির্বাচন প্রতিযোগিতার হোক; কিন্তু তা যেন সহিংসতায় শেষ না হয়। সংঘাত-সংঘর্ষে জীবন চলে যাবে-এমনটি যাতে কখনো না হয়। 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন উপলক্ষে রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

সংশয় প্রকাশ করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সিইসি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ ভালো আছে। তাই নির্বাচনে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন নেই। নির্বাচনের দিন এবার থাকছে না সাধারণ ছুটিও। 

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন-সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর। এসময় উপস্থিত ছিলেন-চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান ও চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান প্রমুখ। 

কেএম নুরুল হুদা বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে। বর্তমানে আশ্বস্ত করার মতো নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে। নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবের সৃষ্টি হয়েছে। বিপুল পরিমাণ মানুষ প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের বক্তব্য আমরা শুনেছি। তারা সবাই নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাই নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের কোনো প্রয়োজনীয়তা কমিশন অনুভব করছে না। 

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া একজন প্রার্থীর পরিচয় সে শুধুই একজন প্রার্থী। সে কোন দলের, মতের, গোত্রের সেটা বড় পরিচয় নয়। সকল প্রার্থীকে নির্বাচনী প্রচারণায় আইনি সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। নির্বাচন উপলক্ষে কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তির জীবন চলে গেছে। এভাবে সংঘাত সংঘর্ষে জীবন চলে যাবে এটা হতে পারে না। 

সিইসি বলেন, এবারের নির্বাচনে সাধারণ ছুটি থাকছে না। বেশিরভাগ সময় আমরা দেখেছি ছুটি পেয়ে বেশিরভাগ ভোটাররা বাড়ি চলে যায়, ভোট দেয় না। কেবিনেট থেকে একটা নির্দেশনা জারি আছে, যারা ব্যক্তিগত বা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত থাকবেন তাদের যেন ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এ কারণে সাধারণ ছুটি আর রাখা হচ্ছে না। তবে নির্বাচনের দিন বড় গাড়ি, ট্রাক এবং মোটরসাইকেল চলাচল নিষেধ থাকবে।

বিষয় : সিইসি নির্বাচন কমিশন

মন্তব্য করুন