সিলেটে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় বাদী অনুপস্থিত থাকায় প্রথম দিন সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি।

রোববার সিলেট বিভাগীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার বাদীপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। প্রথম দিনে মামলার বাদী ধর্ষণের শিকার তরুণীর স্বামীর সাক্ষ্য গ্রহণের কথা থাকলেও তিনি আদালতে আসেননি।

এই ট্রাইব্যুনালে সরকারপক্ষের আইনজীবী রাশিদা সাঈদা খানম সমকালকে বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হক আগামী বুধবার সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

রোববার মামলার বাদী অনুপস্থিত থাকলেও তার নিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের পাশাপাশি চাঁদাবাজি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ করার আবেদন জানান। বিচারক তা নামঞ্জুর করে শুধু ধর্ষণ মামলার বিচারের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন। এ ছাড়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও আরেক আসামি শাহ মাহবুবুর রহমান রনি আদালতে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তাও নামঞ্জুর করেন। সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য মামলায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগের আটজনকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে আনা হয়েছিল।

গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পাশাপাশি মারধর ও চাঁদাবাজি করা হয়। এ ঘটনায় স্বামী বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় ছাত্রলীগের ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। র‌্যাব-পুলিশ ছাত্রলীগের আটজনকে গ্রেপ্তারের পর তারা রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়।

গত ২ ডিসেম্বর পুলিশ ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে পৃথক অভিযোগপত্র দেয়। এরপর ধর্ষণ মামলা বিচারের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। গত ১৭ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

এ মামলায় আসামিরা হলো সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম রাজন মিয়া, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুম। তাদের মধ্যে প্রথম ছয়জন সরাসরি ধর্ষণে অংশ নেয় এবং শেষ দু'জন তাদের সহযোগিতা করে।



বিষয় : সিলেট এমসি কলেজে ধর্ষণ

মন্তব্য করুন