জমিতে কখন সেচ দিতে হবে, কী পরিমাণ পানি প্রয়োজন তা নিয়ে বলা যায় অনেকটা বিভ্রান্তির মধ্যেই থাকতে হয় কৃষকদের। কারণ সঠিক সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিতে না পারলে ফসলের উৎপাদনে হেরফের ঘটে। তবে এবার কৃষকের জন্য সুখবর দিচ্ছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) একদল গবেষক। তারা এমন একটি সেচযন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন যেটি কাজ করবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। কৃষককে আর ব্যতিব্যস্ত হতে হবে না সেচ নিয়ে। এই যন্ত্র মাটির আর্দ্রতা পরীক্ষা করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সময়মতো প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সেচ দেবে জমিতে। স্বয়ংক্রিয় এই সেচযন্ত্র দেশে প্রথম বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন এবং কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদ আল মামুন, সহকারী অধ্যাপক জানিবুল আলম সোয়েব, বিভাগের দুই শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম রাব্বী ও নুরুল আজমীর এই প্রটোটাইপ ডিভাইসটি তৈরি করেছেন। কৃষকের সেচের সমস্যা সমাধানে এই যন্ত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন গবেষকরা। যন্ত্রটি তৈরি করতে তারা মাইক্রোকন্ট্রোলারে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ব্যবহার করেছেন।

বর্তমানে দেশে কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সেচযন্ত্র ব্যবহূত হলেও স্বয়ংক্রিয় কোনো যন্ত্র নেই। ফলে কৃষককে জমি ও ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী সেচের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক কৃষক জমিতে প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি সেচ দিয়ে থাকেন। এতে ফসলের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে। আবার সিংহভাগ ক্ষেত্রে বিদ্যুতের ব্যবহারের জন্য রাতে কৃষককে সেচযন্ত্র ব্যবহার করতে হয় বলে বিশ্রামেরও সমস্যা হয়।

এ বিষয়ে প্রধান গবেষক ড. মুহাম্মদ রাশেদ আল মামুন বলেন, এই যন্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাটির আর্দ্রতা নির্ণয় করতে সক্ষম। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী মাটির আর্দ্রতা ও পানির উচ্চতা পরিমাপ করে পাম্প স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে এবং বন্ধ হবে। কৃষককে পানি দেওয়ার সময় ও পরিমাণ নির্ধারণের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেবে। পাশাপাশি ভিন্ন ভিন্ন শস্যের ক্ষেত্রে পানির চাহিদা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন আর্দ্রতা ও উচ্চতায় এই যন্ত্রের সুবিধা নেওয়া যাবে।

ড. রাশেদ সমকালকে বলেন, কোন ফসলে কী পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয় তা কৃষকরা জানলেও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয় না। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পানির অপচয় হতে দেখা যায়। পাশাপাশি বিদ্যুতেরও অপচয় হয়। আমাদের তৈরি ডিভাইসটি সেচযন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করে তাতে মাত্রা নির্ধারণ করে দিলে পানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে। এই ডিভাইস মাটির ময়েশ্চার নির্ধারণ করে জমিতে পানির প্রয়োজন হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেচযন্ত্র চালু করবে।

গবেষক আরও বলেন, এই ডিভাইসটি মাঠপর্যায়ে উপযোগী করে তুলতে পারলে সেচ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। ফলে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। তিনি বলেন, একজন কৃষক যে কোনো সেচযন্ত্রের সঙ্গে এই ডিভাইস যুক্ত করে নিশ্চিন্ত হয়ে যেতে পারেন। কারণ তখন ফসলের নির্ধারিত মাত্রা অনুযায়ী জমির পানি ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করবে স্বয়ংক্রিয় ডিভাইসটি। অচিরেই ডিভাইসটি কৃষকের ব্যবহারে জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।